বৃহস্পতিবার সকাল সকাল বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা ইমন চক্রবর্তীর। জানিয়ে দিলেন তিনি আর সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকবেন না। একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ, বিরক্ত গায়িকা জানিয়ে দিলেন তিনি ক্লান্ত। আর পারছেন না। কিন্তু কেন, ঠিক কী ঘটেছে তাঁর সঙ্গে? 

এদিন সকালে ফেসবুকে লাইভ আসেন ইমন চক্রবর্তী। সেখানেই তিনি জানান তাঁর মাকে অপমান করা হয়েছে, তাও তাঁর মৃত্যু দিবসে। ইমন চক্রবর্তী কেন রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পাঁচালি গেয়েছেন, সেই কারণে তাঁকে তো কটাক্ষ, বিদ্রুপ করা হয়েছেই, ছাড় দেওয়া হয়নি গায়িকার প্রয়াত মাকেও। এদিন লাইভে এসে ইমন জানান এই মন্তব্য দেখে তিনি গোটা রাত ঘুমাতে পারেননি। অসুস্থবোধ করছেন। 

ইমন তাঁর লাইভে বলেন, 'আমি একজন সঙ্গীতশিল্পী। আমি গান গাই। সব ধরনের গান গাই, রবীন্দ্রনাথের গান গাই, আমার নিজের যেগুলো প্লেব্যাক করা সেগুলো গাই। হিন্দি, উড়িয়া, পাঞ্জাবি গান গাই, পাঁচালি গাই। আমাকে গাইতে হয়েছে। আমার কোনও আপত্তি নেই। আমাকে গাইতে হয়েছে, গেয়েছি। আপনাদের কীসের আপত্তি? আমার বাড়ির লোকের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তারপরেও এত কটাক্ষ ধেয়ে আসছে। কালকে আমার মায়ের মারা যাওয়ার দিনে আমি একটা পোস্ট দিয়েছি, সেখানে কমেন্ট করেছে হ্যাঁ আপনার মাকে ডাকুন। আপনার মায়ের দেখা উচিত আপনি পাঁচালি গেয়ে, চটিচেটে বঙ্গবিভূষণ পেয়েছেন। এরপর আপনি নোবেল পাবেন। আর এটাই আমার চোখ খুলে দিল।' 

গায়িকা নেটিজেনদের উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি তো ঘৃণা ছড়াচ্ছেন না। তাহলে তিনি কোথায় কী করবেন, কী করবেন না, সেটা কেন অন্যরা ঠিক করে দিচ্ছেন? তাঁর সাফ কথা, 'আমি হাতজোড় করে আপনাদের একটা কথা বলছি। কালকে আমার মায়ের জায়গা ছোঁয়া হয়েছে। আমার মাকে টেনে নামানো হয়েছে। তাঁকেও ছাড়েনি। এই সোশ্যাল মিডিয়া আমার জন্য নয়। আমি অবাক হয়ে গিয়েছি, আমি বিধ্বস্থ। নিতে পারছি না। আমার ব্যক্তিগত জায়গায় আপনাদের কিছু বলার নেই। আমি কোন ব্র্যান্ডের জামা পরব, কী খাব, কার সঙ্গে মিশব, কী করব সেটা নিয়ে আপনাদের বলার অধিকার নেই। এরপর যদি মনে করেন আপনারা আমার গান শুনবেন না, আমি বলছি শুনবেন না।' 

ইমন চক্রবর্তী এদিন তাঁর বক্তব্যের শেষে জানিয়ে দেন, বর্তমান সময়ে সমাজমাধ্যম খুবই জরুরি। তাই তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল বা ফেসবুক পেজ থাকবে যেখানে তিনি তাঁর কাজের আপডেট দেবেন, গান দেবেন। কিন্তু তিনি আর ব্যক্তিগত ভাবে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করবেন না।