বলিউড থেকে হলিউড, বিশ্বমঞ্চে আজ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সাফল্যের শিখরে থাকলেও শিকড়কে তিনি যে ভুলে যাননি, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের দৈনন্দিন অভ্যাস এবং বিশ্বাসের কথা বলতে গিয়ে আরও একবার সেই প্রসঙ্গই মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর হ্যান্ডব্যাগের মধ্যে সবসময় একটি ‘হনুমান চালিশা’ থাকে এবং তিনি প্রতিদিন সেটি পাঠ করার চেষ্টা করেন।

প্রিয়াঙ্কার কথায়, এই ছোট্ট ধর্মীয় বইটি তাঁর কাছে কেবল কোনও বস্তু নয়, এটি তাঁর শক্তির উৎস। তিনি বলেন, “আমি সবসময় এটি ব্যাগে রাখি। যখনই সময় পাই বা নিজেকে অস্থির মনে হয়, আমি পড়ার চেষ্টা করি। এই বইটি আমায় সুরক্ষা দেয় এবং অদ্ভুত এক মানসিক শান্তি জোগায়।” এই অভ্যাসটি তিনি তাঁর পরিবারের কাছ থেকে পেয়েছেন এবং বছরের পর বছর ধরে তা পালন করে আসছেন।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মনে করেন, বিদেশ কাজের চাপে যখন তিনি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন বা জীবনের কোনও কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন, তখন এই আধ্যাত্মিকতা তাঁকে স্থির থাকতে সাহায্য করে। তিনি আরও জানান যে হনুমানের প্রতি তাঁর এই বিশ্বাস ছোটবেলা থেকেই। তাঁর বাবা প্রয়াত অশোক চোপড়া এবং মা মধু চোপড়াও অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মানুষ, যার প্রভাব রয়েছে প্রিয়াঙ্কার জীবনেও। 

হলিউড অভিনেতা নিক জোনাসকে বিয়ের পর প্রিয়াঙ্কা বর্তমান ঠিকানা আমেরিকা। লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে একটি সুন্দর মন্দিরও তৈরি করেছেন ‘দেশি গার্ল’। সেখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা এবং আরতি করা হয়। এর আগে দীপাবলি বা গৃহপ্রবেশের সময় নিকের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার পুজোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছিল। প্রাচ্যের সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য জীবনধারার এই মেলবন্ধন ভক্তদের মনে প্রিয়াঙ্কার জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। 

অভিনয় জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের বিশ্বাসকে ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা প্রিয়াঙ্কার ব্যক্তিত্বের এক অন্য দিক তুলে ধরেছে। তিনি মনে করেন, জীবনে যতই উন্নতি হোক না কেন, নিজের বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে লালন করা জরুরি। হনুমান চালিশা পাঠ কেবল একটি ধর্মীয় প্রথা নয়, এটি তাঁর আত্মবিশ্বাসের এক গোপন কবজ। প্রিয়াঙ্কার এই স্বীকারোক্তি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ চর্চিত হচ্ছে এবং তাঁর ভারতীয় অনুরাগী মহলে প্রশংসাও কুড়িয়েঠে। 

আধুনিকতার মোড়কে নিজেকে মুড়িয়ে নিলেও, ব্যাগের কোণে রাখা সেই ছোট্ট হনুমান চালিশা যেন মনে করিয়ে দেয়, ‘দেশি গার্ল’ আজও মনেপ্রাণে খাঁটি ভারতীয়।