রাত পোহালেই দোল উৎসব। রং খেলায় মেতে উঠবেন সাধারণ মানুষ থেকে তারকারা। কেউ গালে মাখাবেন আবির, কেউ আবার সময় কাটাবেন নিজস্ব পরিসরে কলকাতা থেকে বহু দূরে। আবার কেউ পাশে থাকবেন তাঁর একান্ত আপনজনের। মোট কথা, এই দোলে কার রংবাজি কেমন হবে তা জানতেই ঋষভ বসু, সৃজলা গুহ, রিজওয়ান রব্বানি শেখ এবং অর্পণ ঘোষালের কাছে খোঁজ নিয়েছিল আজকাল ডট ইন। তারকাদের সেই জমজমাট ‘রংবাজি’র প্ল্যান এবার শুনে নিন আপনারাও। এক কথায় প্রত্যেকের উৎসবের রং আলাদা, কিন্তু অনুভূতি এক। এবং তা হল, নিজেদের মতো করে আনন্দ।
কখনও তিনি মঞ্চাভিনেতা, আবার কখনও তিনি বড়পর্দায় জনপ্রিয় ‘গোয়েন্দা’। আবার তিনি-ই ‘ফাইন আর্টিস্ট’। তিনি, ঋষভ বসু। ফোন বারবার কেটে যাচ্ছিল কথা শুরুর খানিকক্ষণের মধ্যেই। শেষমেশ নেটওয়ার্ক ঠিকঠাক পাওয়া গেল। ঋষভ জানালেন, তিনি এইমুহূর্তে সিকিমে ছুটি কাটাতে এসেছেন। এই প্রথম গোটা রাস্তা গাড়ি চালিয়ে এসেছেন। সঙ্গে রয়েছে তাঁর ভালবাসার মানুষ ও প্রিয় বন্ধুরা। অভিনেতার কথায়, " সত্যি কথা বলতে কী, অভিনয়কে পেশা হিসেবে বাছার পর আর রং খেলা সেভাবে হয় না। কারণ শুটিং থাকে তো, শরীর থেকে রং ঠিকঠাক না তুলতে পারলে খুব সমস্যার। তবে একটা সময় পর্যন্ত চুটিয়ে রং খেলেছি।” খানিক দম নিয়ে ‘সরলাক্ষ হোমস’ আরও বললেন, “আসলে, আমরা বান্ধবীর জন্মদিন ৪ মার্চ। ওর খুব ইচ্ছে ছিল, যদি এই জন্মদিনটা পাহাড়ের কোলে কাটানো যায়। আমিও ফাঁকা ছিলাম। অগত্যা ঝটপট পরিকল্পনা করে সিকিম চলে এলাম। আর থাকবও সিকিমে আগামী বেশ কয়েকদিন। এদিক ওদিক ঘুরব, নিজেদের মতো একান্তে সময় কাটাবো। তাই বলাই বাহুল্য রং খেলা যেমন হচ্ছেও না, তেমন কলকাতার দোলখেলা থেকে অনেক দূরেই থাকব এবার। অবশ্য আমার তাতে কোনও আক্ষেপ নেই। এখন যেভাবে রং খেলা হয়, বীভৎস জোরে গান বাজিয়ে, হাল্লা পাকিয়ে যে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয় চারপাশে, তাতে মজার থেকে বিরক্তিটাই লাগে বেশি। তার থেকে এই বেশ…ভালবাসার মানুষ ও বন্ধুদের সঙ্গে দোল পূর্ণিমা নিজেদের মতো উদ্যাপন করব।”
ছোটপর্দায়, ওয়েব সিরিজে সৃজলা গুহ অত্যন্ত পরিচিত নাম। এর পাশাপাশি ভাল বেলি ড্যান্সার। তিনি যেমন নিজের মতো করে কাজ বেছে করেন, তেমন স্পষ্টভাবে গুছিয়েও কথা বলেন। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি কোনওদিনও রং খেলা নিয়ে তেমন মাতামাতি করিনি। অত লোকজনের মাঝে দম আটকে আসে, অস্বস্তি হয়। তার উপর জোর করে রং মাখিয়ে দেওয়া ব্যাপারটা আমার সত্যিই না-পসন্দ। আর যেভাবে অধিকাংশ মানুষ নিরীহ পথকুকুরদের চেপে ধরে তাদের রং লেপে দেয়, তা দেখে প্রচণ্ড রাগ হয়, বিরক্ত লাগে। এরপর কুকুররা যদি কামড়ে দেয়, তখন দশ হবে ওদের! এই তো অবস্থা! তাই সাধারণত বাড়িতেই থাকি এদিন অথবা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে নিজস্ব পরিসরে জমাটি আড্ডা ও খানাপিনা করি। তবে এবারের দোলে আমি কলকাতায় থাকছি না। পুরীর মন্দিরে থাকব। আচমকাই প্ল্যান করেছি আমি ও আমার বোন-আমরা দু’জনেই যাব। পুরীর মন্দিরে পুজো দেব, জগন্নাথদেবের দর্শন করব। এটাই পরিকল্পনা। হোলির দিনটা পুরীতেই থাকব, বিকেলবেলা সমুদ্র সৈকতে গিয়ে সূর্যাস্ত দেখব দুই বোন মিলে, এইটুকুই ইচ্ছে।” সৃজলা এর পাশাপাশি সঙ্গে জানালেন, পুরীর সমুদ্রে স্নান করার কোনও প্রশ্ন-ই নেই তাঁর, কারণ তিনি সাঁতার জানেন না, তাই ভরসাযোগ্য কেউ সঙ্গে না থাকলে সমুদ্রে সাঁতার কাটা থেকে শতহস্ত দূরে থাকেন তিনি। কথাশেষে সবার উদ্দেশে দলের শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিনেত্রীর সংযোজন, " জানি না, আমার অনুরোধ শোনা হবে কি না, তবু সবার উদ্দেশ্যেই বলছি - পথকুকুর ও বেড়ালদের এবার একটু রেহাই দিন। সারা বছর যখন ওদের নিয়ে আনন্দ করেন না, তখন এই দোলের দিনে রং লাগিয়ে ওদের ক্ষতি করবেন না।”
বড়পর্দা এবং ছোটপর্দার মধ্যে তাঁর অনায়াস আনাগোনা। এবং তাঁর ফাঁকফোকরে মঞ্চেও। সম্প্রতি বড়পর্দায় জনপ্রিয় কমিকস চরিত্র ‘রাপ্পা রায়’কে জীবন্ত করেছেন অর্পণ ঘোষাল। পার্ক স্ট্রিটে জমিয়ে শুটিং চলছে তাঁর আগামী ছবি। তার ফাঁকেই অল্প করে 'রাপ্পা রায়' বলে উঠলেন, " একটা সময় দোল খেলার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। শুধু আবির না, চুটিয়ে রং-ও খেলতাম। এমনও হয়েছে কেউ রং খেলার না থাকলে বালতির জলে রং গুলি নিজের মাথায় ঢেলে নিতাম! তবে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পর দোল খেলি না বহু বছর। আর এখন রং খেলার নামে যা হয়, সেসব সবাই জানেন। রং খেলার উদ্যাপনটা বদলে গিয়েছে বেবাক, নির্লজ্জ ফূর্তিতে। অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। সত্যি বোসালহি, ভাল লাগে না আর এসব দেখতে। আর তাছাড়া যে বয়সে পৌঁছেছি, আমার মনে হয় যে কোনও উৎসব মানেই পরিবার ও কাছের মানুষদের সঙ্গে রিইউনিয়ন করার একটা মস্ত সুযোগ। আমিও ঠিক সেটাই করি। আগামীকাল, আমার তুতো ভাইবোনেরা সব আসবে আমার বাড়ি। একসঙ্গে আড্ডা মারব। দুপুরে জমিয়ে খাসির কষা মাংস আর ভাত খাব। আরও টুকটাক খাবার তো থাকবেই। পাশাপাশি জমিয়ে ক্যারাম খেলব। বালিশের উপর বুক দিয়ে শুয়ে মৌজ করে তাস খেলব।”
এই মুহূর্তে বাংলা সিরিয়ালের জনপ্রিয় মুখ তিনি। রিজওয়ান রব্বানি শেখ। অল্প কথায় তিনি বললেন, “ রোজা চলছে তাই রং খেলার মতো আর অবস্থা থাকবে না। গত দু’বছর ধরেই দোল উৎসব রোজার মধ্যে পড়েছে, তাই সেভাবে খেলা হচ্ছে না। নইলে আমি কিন্তু খেলি। পরিবার, বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে হৈ-হল্লা করে খেলি রং। আমার বেশ মজা লাগে। ন্ডাস্ট্রির দোলপার্টিতেও বেশ কয়েকবার গিয়েছি। এবারে যেহেতু রোজা চলছে, তাই সন্ধ্যেবেলা ইফতারের পর যদি কোনও খাওয়াদাওয়ার প্ল্যান হয়, তো হবে। তবে এখনও পর্যন্ত কিছু পরিকল্পনা নেই।” একেবারে শেষে তাঁর সংযোজন, “সবাই খুব আনন্দ করে রং খেলুন। তবে সাবধানে। জমজমাট করে খাওয়াদাওয়া করুন। আর হ্যাঁ, পথকুকুরদের দয়া করে রং দেবেন না। আপনাদের হয়তো একটু মজা লাগবে কিন্তু ওদের কষ্টটা থাকবে অনেকক্ষণের। তাই প্লিজ...”
দোল মানেই শুধু রং নয়, এই কথাটাই যেন আবার মনে করিয়ে দিলেন এই চার তারকা। কেউ পাহাড়ে, কেউ মন্দিরে, কেউ পরিবারে, কেউ ধর্মীয় অনুশাসনে — তবু উৎসবের মর্ম একটাই। আনন্দ, সম্পর্ক আর নিজের মতো করে বাঁচার সময়।
