টেলিভিশন অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালের অকাল মৃত্যুতে বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই সরব হয়েছেন অভিনেত্রী আঁচল খুরানা। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিকগুলোর দিকে আঙুল তুলেছেন। আঁচলের দাবি, গ্ল্যামারের আড়ালে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা প্রতিনিয়ত যে চরম মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যান, তা অনেকেই বুঝতে চান না।

আঁচলের কথায়, চ্যানেলগুলোর টিআরপি এবং প্রযোজকদের বাজেট বাঁচানোর ইঁদুর দৌড়ে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ শিল্পীরা। ছোটখাটো বিষয়েও তাঁদের অকারণে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিনেত্রী অভিযোগ করেছেন, অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার জন্য কিংবা পেশাগত টিকে থাকার লড়াইয়ে অনেক সময় অসম্মানজনক প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কাউকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে রাজি না হলে বা নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করতে গিয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি, সামান্য টাকা বাঁচাতেও শিল্পীদের সঙ্গে জঘন্য আচরণ করা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ভিডিও ভাগ করে তিনি বলেন, "চ্যানেলগুলো চায় টিআরপি, প্রযোজকরা চান বাজেট কমাতে, আর দর্শকরা চায় বিনোদন। কিন্তু কেউ কি কখনও ভেবে দেখেছে একজন অভিনেতাকে কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়? ছোটখাটো সমস্যা হলেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদি কারওর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হও, তবে তোমাকে সরিয়ে দেওয়া হবে। যদি নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় প্রতিবাদ করো, তবে তোমাকে সরিয়ে দেওয়া হবে, নয়তো তোমার কাজের দিন কমিয়ে দেওয়া হবে। কেউ কি সত্যিই ভেবে দেখেছে অভিনেতা বা ইনফ্লুয়েন্সাররা কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে?"

অভিনেত্রীর মতে, প্রতিদিন নতুন আশা নিয়ে অডিশন দিতে যাওয়া এবং প্রতি সন্ধ্যায় প্রত্যাখ্যানের শিকার হওয়াটা এক প্রকার মানসিক নির্যাতনের মতো। তিনি বলেন, “সবাই বলে শক্তিশালী হতে, কিন্তু কেউ শেখায় না যে এই পরিস্থিতির সঙ্গে কতবার লড়াই করতে হবে।” 

আঁচল জানান, তিনিও ব্যক্তিগতভাবে এই ধরণের চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। তাই যাঁরা খুব ভেঙে পড়ছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়াই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমাধান। একা থাকতে গিয়ে অবসাদের কবলে পড়ার চেয়ে প্রিয়জনদের সান্নিধ্য অনেক বেশি জরুরি।

প্রসঙ্গত, সঞ্চিতার মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিনেত্রীর পরিবার এবং সহকর্মীরাও এই মৃত্যুর পিছনে ইন্ডাস্ট্রির প্রবল চাপের ভূমিকা থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন।