হিন্দি ধারাবাহিক ‘হসরতেঁ’র সেট। তরুণ অভিনেতা হর্ষ ছায়া আর সদ্য থিয়েটার স্কুল থেকে  আসা শেফালি শাহ — সহকর্মী থেকে প্রেম, প্রেম থেকে বিয়ে। সাল ১৯৯৪। কিন্তু সেই ভালবাসার গল্প মাত্র ছ’বছর টিকেছিল। 

 ২০০০ সালে শেফালি আর হর্ষের বিচ্ছেদ হয়। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে হর্ষ জানালেন, দীর্ঘ পঁচিশ বছর পরেও সেই স্মৃতি কোথাও যেন কাঁটার মতো খচখচ করে। 

হর্ষের কথায়, “আট-ন’মাস আগে থেকেই বুঝতে পারছিলাম, এই সম্পর্ক শেষের দিকে এগোচ্ছে। ও যখন বলল, ‘আর তোমার সঙ্গে থাকতে পারব না, সত্যি বলতে, আমি প্রস্তুতই ছিলাম।” তবু প্রস্তুত থাকা মানেই যে কষ্ট কম হয় তা নয়৷ 

 “এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে কঠোর দেখানোর চেষ্টা করবেন না। এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। আমি পাঁচ-ছ’মাস ধরে কেঁদেছি, চিৎকার করেছি, অনুতাপে পুড়েছি। তারপর আস্তে আস্তে বেরিয়ে এসেছি।”

কষ্ট সামলাতে একাধিক ‘রিবাউন্ড ডেট’-এর কথাও খোলাখুলি স্বীকার করেছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রতিটি বিচ্ছেদ ভীষণ ব্যক্তিগত। 
 একজনের অভিজ্ঞতা দিয়ে আরেক জনের গল্প বোঝা যায় না। বিচ্ছেদকে আজও সমাজ যে কলঙ্ক ভাবে, সেই মানসিকতাকে চ্যালেঞ্জ করেই তিনি বলেছেন, “এটি কোনও অপরাধ নয়, জীবনের একটি অধ্যায় মাত্র। আমার কাছে সেই অধ্যায় এখন বন্ধ।”

বিচ্ছেদের তিন বছর পর, ২০০৩ সালে, হর্ষ ছায়া বিয়ে করেন বাঙালি অভিনেত্রী সুনীতা সেনগুপ্তকে৷ অন্যদিকে, শেফালি শাহ ২০০০ সালেই বিয়ে করেন পরিচালক বিপুল অমৃতলাল শাহকে। দু’জনের দুই ছেলে — অর্যমান ও মৌর্য।

  শেফালি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আগের সম্পর্কে নিজেকে নিঃশেষে বিলিয়ে দিয়েছিলাম। তখনই বুঝেছিলাম, আদর্শ বিয়ে বলে কিছু হয় না।”

দু’জন কি আজও কথা বলেন? “না, আমরা বন্ধু নই,” বলছেন হর্ষ। “তবে কোথাও মুখোমুখি পড়ে গেলে অস্বস্তি হবে না। বহু বছর পেরিয়ে গিয়েছে। আমার কাছে সেই অধ্যায় বন্ধ।”