সংবাদ সংস্থা মুম্বই :  আশি থেকে নব্বইয়ের দশকে বলিপাড়ার প্রথম সারির তারকার তালিকায় অন্যতম নাম ছিল গোবিন্দা। সেই সময়ে কৌতুকাভিনেতা হিসাবে বলিপাড়ায় গোবিন্দার রমরমা ছিল। 'রাজা বাবু', 'কুলি নম্বর ওয়ান', ‘হিরো নম্বর ওয়ান’, 'বড়ে মিঞা ছোটে মিঞা'র মতো একের পর এক হিট ছবি বক্স অফিসে উপহার দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।  অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও সমান পারদর্শী তিনি। এরকম সময়েই এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটেছিল এই বলি-তারকার বাড়িতে। সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার কথা জানালেন গোবিন্দার স্ত্রী সুনীতা আহুজা।

 

গোটা দেশ জুড়ে গোবিন্দার জনপ্রিয়তা তখন তুঙ্গে। সেই সময় তাঁর বাড়িতে একজন নতুন  কাজের মহিলা রাখা হয়। টুকটাক ফাইফরময়েস খাটার পাশাপাশি বাড়ির বাসন মাজার জন্য। তবে সেই কাজের মহিলাকে দেখে খানিক সন্দেহই প্রকাশ করেন গোবিন্দার স্ত্রী। সুনীতার কথায়, "ওঁকে প্রথমবার দেখে আমার খানিক সন্দেহ হয়েছিল কারণ তথাকথিত বাড়ির কাজের মেয়েদের মতো ওঁকে দেখতে ছিল না। তার উপর ঠিক করে বাসনটুকুও হাতে ধরে মাজতে পারতেন না। কথাটা আমার শাশুড়িকেও বলেছিলাম আমি। ধীরে ধীরে ওঁর নানান বিষয় লক্ষ্য করা শুরু করলাম আর আমার সন্দেহ উত্তরোত্তর বাড়তে লাগল"।

 

“দেখতাম অনেক রাত অবধি মেয়েটি জেগে থাকত শুটিং থেকে ফেরত আসা গোবিন্দাকে দেখবে বলে। শেষমেশ ওঁকে একদিন চেপে ধরতেই সত্যি কথাটা বলে ফেললেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছিলেন উনি গোবিন্দার অন্ধ ভক্ত এবং একজন মন্ত্রী-কন্যা! স্রেফ গোবিন্দাকে কাছ থেকে দেখবে বলে কাজের লোক সেজে আমাদের বাড়িতে থাকছিলেন! ধরা পড়ার আগে প্রায় ২০ দিন উনি কাজের লোক সেজে ছিলেন আমাদের বাড়িতে। তারপর একদিন দেখলাম মেয়েটির বাবা এলেন। সঙ্গে আরও চারটি গাড়িতে ভর্তি রাজনৈতিক নেতারা...” তবে ওই মেয়েটি কোন মন্ত্রীর কন্যা ছিল সেকথা ফাঁস করেননি গোবিন্দা-স্ত্রী।

 

কথাশেষে সুনীতার সংযোজন, “এরকম ছিল গোবিন্দার জনপ্রিয়তা। সেই সময়ে বিদেশে ট্যুরে গোবিন্দার সঙ্গে আমিও যেতাম। দেখতাম কাছ থেকে মঞ্চে ওঁকে দেখামাত্র বহু নারী আনন্দে অজ্ঞান হয়ে যেতেন!”