সংবাদ সংস্থা মুম্বই: প্রবীণ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মনোজ কুমার আজ ৮৭ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন। তাঁর রেখে যাওয়া দেশপ্রেমে ভরপুর চলচ্চিত্রের উত্তরাধিকার আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে উজ্জ্বল। দেশাত্মবোধক চরিত্রে একের পর এক অবিস্মরণীয় অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছিলেন এক অনন্য উপাধি — ‘ভারত কুমার’।
এক সাক্ষাৎকারে মনোজ কুমার একসময় জানিয়েছিলেন কীভাবে তিনি এই গর্বিত শিরোপা পেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর ১৯৬৭ সালের কালজয়ী ছবি ‘উপকার’-এ ‘ভারত’ চরিত্রে অভিনয়ের পর থেকেই দর্শকের ভালবাসায় তিনি হয়ে ওঠেন ‘ভারত কুমার’। সেই চরিত্রটি তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
তিনি বলেন,“প্রায়ই দেখা যায়, ভাল কোনও চরিত্রের নাম মানুষের মনে গেঁথে যায়। আমি ভাবলাম—ভারত তো গ্রামে থাকে, এটা তো কৃষকের দেশ। তাই চরিত্রটার নাম দিলাম ‘ভারত’। ওর জীবনটা মাঠ-ঘাট-খেতের সঙ্গে জড়িত। তারপর ওর জীবনে এক মেয়ে আসে, যেন ঝলমলে এক কবিতা—তাই মেয়েটার নাম দিলাম ‘কবিতা’।” তিনি আরও বলেন,“ভারত নামটা রেখেছিলাম কারণ আমি দেখাতে চেয়েছিলাম যে প্রকৃত ভারত বাস করে গ্রামে, কৃষকের মধ্যে। আর আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ এতটাই হৃদয়বান যে যখনই তারা কিছু সত্যি আর ভাল দেখে, তারা সেটা মন থেকে গ্রহণ করে। তারা যে ভালবাসা দেয়, যে সম্মান দেয়—তা দুনিয়ার কোথাও মেলে না। আমি তো ছিলাম এক সাদাসিধে ছেলে, আপনারাই আমাকে ‘ভারত’ বানালেন। কৃতজ্ঞতাও জানালেন, কিন্তু সেই সঙ্গে আমার কাঁধে একটা বড় দায়িত্বও তুলে দিলেন—এই আবেগ, চরিত্রটি ধরে রাখার।”
এই সম্মান পাওয়ার পর, মনোজ কুমার এমনকী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি আর কোনও চলচ্চিত্রে নায়িকাকে স্পর্শ করবেন না। তাঁর কথায়, “যদি আমি আদর্শের কথা বলি, তাহলে আবার নায়িকার গলা জড়িয়ে সেই আমি গান গাই বা জলে গিয়ে রোম্যান্স করি—তাহলে মানুষ আমাকে কীভাবে বিশ্বাস করবে?”
