অনেকেই বলেন, যতই পরিশ্রম করুন না কেন, টাকা যেন হাতে থাকতেই চায় না। মাসের শুরুতে আয় হলেও মাসের শেষে হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে যায়। সংসারের খরচ, ঋণের চাপ, হঠাৎ আসা খরচ কিংবা নানা আর্থিক সমস্যার কারণে সঞ্চয় করা সম্ভব হয় না।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাসের আশ্রয় নেন। সেই কারণেই কালাষ্টমীর রাতকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
2
9
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কালাষ্টমী তিথি কাল ভৈরবের আরাধনার জন্য অত্যন্ত শুভ। শিবের উগ্র ও শক্তিশালী রূপ হিসেবে কাল ভৈরবকে মানা হয়। বিশ্বাস করা হয়, তাঁর কৃপা লাভ করলে জীবনের নানা বাধা দূর হয় এবং ভাগ্যের উন্নতি ঘটে।
3
9
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কালাষ্টমীর রাতে একটি খুব সহজ উপায় করা যেতে পারে। এর জন্য বিশেষ কোনও সামগ্রীর প্রয়োজন নেই। শুধু একটি পরিষ্কার পাত্রে জল নিলেই হবে।
4
9
আজ ৮ জুন কালাষ্টমী। এদিন রাত ৮টা ৮ মিনিটে উত্তর দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে। তারপর সেই পাত্রের জল থেকে মাথার উপরে আটবার ছিটিয়ে দিতে হবে। এই কাজ করার সময় কাল ভৈরবের নাম স্মরণ করতে পারেন এবং নিজের মনের ইচ্ছার কথা প্রার্থনার মাধ্যমে জানাতে পারেন।
5
9
এই নিয়মটির সঙ্গে ‘আট’ সংখ্যার একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। কারণ কালাষ্টমী শব্দের মধ্যেই ‘অষ্টমী’ অর্থাৎ আট সংখ্যার ইঙ্গিত রয়েছে। তাই আটবার জল ছিটিয়ে এই তিথির শক্তিকে সম্মান জানানো হয় বলে অনেকের বিশ্বাস।
6
9
এছাড়া উত্তর দিককে ধনসম্পদের দেবতা কুবের-এর দিক হিসেবে ধরা হয়। হিন্দুশাস্ত্রে কুবেরকে সম্পদ ও ঐশ্বর্যের অধিপতি বলা হয়েছে। তাই উত্তরমুখী হয়ে এই আচার পালন করলে অর্থসংক্রান্ত বাধা দূর হতে পারে বলে অনেক ভক্ত মনে করেন।
7
9
অনেকের বিশ্বাস, এই নিয়ম মেনে করলে আটকে থাকা কাজের গতি বাড়ে, অযথা অর্থক্ষয় কমে এবং সংসারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। কেউ কেউ মনে করেন, ঘরে যদি দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি, উদ্বেগ বা কোনও সমস্যার প্রভাব থাকে, তাহলে সেটিও ধীরে ধীরে কমতে পারে।
8
9
যদি মনে রাখা প্রয়োজন, এই ধরনের উপায় ও টোটকা সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং লোকাচারের উপর ভিত্তি করে। এর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
9
9
আর্থিক উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা, সঞ্চয়ের অভ্যাস এবং বিচক্ষণ আর্থিক সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবুও ভক্তিভরে কালাষ্টমীর এই সহজ আচার পালন করলে অনেকের মনে আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচকতা বৃদ্ধি পায়। আর সেই বিশ্বাসই জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাতে পারে।