সম্প্রতি বিয়ের খবর এনে সকলকে চমকে দেন সুস্মিতা রায়। তাঁর ব্যবসার পার্টনার শুভাশিসের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন তিনি। তারপরই তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বিদ্রুপ করেন সায়ক চক্রবর্তী। এর পাল্টা জবাবে লাইভে প্রাক্তন শ্বশুর বাড়ি এবং স্বামীর বিষয়ে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেন সুস্মিতা। এবার আজকাল ডট ইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানালেন কেন এবং কার জন্য তাঁর এবং সব্যসাচী চক্রবর্তীর সম্পর্ক ভেঙেছিল।
সুস্মিতা রায় এদিন বলেন, "আমি মনে করি এটা সায়কের জন্য। হতে পারে সায়কের জন্যই ওর দাদা বা ওর পরিবারের সঙ্গে পরিচয়। ঠিক একই ভাবে ওর জন্যই... আমি জানি না ওর মাথায় কী চলে, বোধহয় দ্বৈত সত্ত্বা কাজ করে। এমন কিছু কূটকচালি করত, যা করা উচিত নয়, বলা উচিত নয় করত। ওর দ্বারা সবাই প্রভাবিত হতো।"
তিনি এদিন আরও বলেন, "আমি ওকে অনেকবার বলতাম, 'এটা করিস না, বলিস না। একটু তোর দাদার সঙ্গে সম্পর্কটা ভাল আছে', সেটা নিয়েও ব্ল্যাকমেল করত। আমার মনে হয় ও যদি ঠিকঠাক হতো, তাহলে সব হয়তো ঠিক থাকত। মানে একদম সব ঠিক না হলেও, আমায় বেরিয়ে আসতে হতো না।"
সুস্মিতা জানান, "সব্যসাচী বাচ্চা পছন্দ করে না জানতাম। কিন্তু পরিবার পছন্দ করে না, জানতাম না। সদ্যই সায়ক সমাজ মাধ্যমে এক ভ্লগারকে সাধ দেওয়ার ছবি পোস্ট করে লিখেছিল, 'বাচ্চা পছন্দ করে না এমন পরিবার খুব কম আছে', কিন্তু তাদের মধ্যে ওরাই একজন।''
সুস্মিতা রায় তাঁর লাইভে জানিয়েছিলেন তিনি তাঁর প্রাক্তন স্বামীর বিকৃত যৌনতার শিকার। সায়ক চক্রবর্তীরা যে লাইভ বা ভ্লগ করেন সেটা আদতে তাঁদের 'পারিবারিক ব্যবসা' বলেও দাবি করেন অভিনেত্রী।
অতীতেও শুভাশিসকে বিয়ের পর সায়ক এবং সব্যসাচীর আনা অভিযোগের পর সুস্মিতা আজকাল ডট ইনকে বলেছিলেন, "ওলটপালট করতে চাইছে, তার কারণ তারা ওলটপালট করতে পারছে না। সেই জন্য বাইরে থেকে খামচানোর একটা চেষ্টা করছে। আমি তাতে খুব একটা বিহ্বল হচ্ছি না। হলে কাল সারারাত জেগে আমি আজ অফিস পৌঁছতে পারতাম না। আমার মনে হয় আমার কাজে ফোকাস করা উচিত। কাজ সব কিছুর উত্তর দেয়। আমি আর কাউকে ভয় পাই না। আমি আর ব্ল্যাকমেলের শিকার হবো না। আমার যা অতীত ছিল সেটাও আমি বলে দিয়েছি। ফলে আমার মনে হয় না ওদের নতুন করে কোনও গল্প সাজানোর আছে আর। হ্যাঁ, নিশ্চয় নতুন গল্প সাজাতে পারে, কোনও গল্পের মোড়ক দিতে পারে মানুষকে ভুল বোঝানোর জন্য। আমার কোম্পানির ক্ষতি করতে পারে। যা কিছু করতে পারে। আমার কিন্তু তেমন কোনও ইন্টেনশন নেই। আমার কারও পিছনে লাগার উদ্দেশ্য নেই, কখনও লাগিনি। আমি আমার কাজটা শুধু করতে চাই। আমি একজন সাধারণ, নর্মাল বর চেয়েছিলাম যে আমার মতো ভাববে। নর্মাল অফিস, বাচ্চা, পরিবার এসব চাইবে। সেটা আমি শুভাশিসের মধ্যে দেখেছি। আমার মনে হয়েছে বোধহয় ওর সঙ্গেই সংসারটা করা যায়। আমার বাচ্চার বাবা ও হতে পারে। সেই জায়গা থেকে ওকে পছন্দ করা। শুভাশিসের জন্য সব্যসাচীর সঙ্গে আমার ডিভোর্স একেবারেই হয়নি। যেটা মানুষ ভুল করছে।"
















