সম্প্রতি জামিন পাওয়ার পর মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার মানহানির মামলা করেছেন তনয় শাস্ত্রী। সেই ঘটনার কিছু ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই তাঁকে পাল্টা ২ কোটি টাকার মানহানি নোটিশ পাঠান মিমি চক্রবর্তীর আইনজীবী। এই গোটা বিষয়ে আজকাল ডট ইনের কাছে মুখ খুললেন অভিনেত্রীর আপ্তসহায়ক।
তনয় শাস্ত্রীর থেকে অভিনেত্রীকে কোনও মানহানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তাঁর আপ্তসহায়ক আজকাল ডট ইনকে বলেন, 'এটা আমাদের উত্তর ছিল এবং আমরা যে মানহানির চিঠি ওঁকে পাঠিয়েছি গত ৪ ফেব্রুয়ারি। এই বিষয়ে এর বাইরে আমাদের আর কিছু বলার নেই।'
কী আছে সেই মানহানির চিঠিতে? মিমি চক্রবর্তীর নাম খারাপ করার জন্য, মানসিক চাপ তৈরি এবং হেনস্থা করার জন্য এই ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা করা হয়েছে তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে। জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার কথাও উল্লেখ আছে।
কিন্তু সত্যিই কি ২৫ জানুয়ারির রাতে দেরি করে অনুষ্ঠানে পৌঁছেছিলেন মিমি চক্রবর্তী? তাঁর করা মানহানি মামলায় জানানো হয়েছে তিনি নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যস্থলে পৌঁছন। কিন্তু সেখানে তাঁর জন্য কোনও মেকআপ রুম, ইত্যাদির ব্যবস্থা ছিল না। উল্টে তনয় শাস্ত্রীর বাড়িতে যেতে বলা হয় তাঁকে। এক মদ্যপ ব্যক্ত তাঁকে সেই অনুরোধ করেন, এবং জানান ওখানে গেলে তনয় শাস্ত্রী তাঁর সঙ্গে ছবি তুলবেন। এই ঘটনার পর নিরাপত্তার কথা ভেবে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে নিজের গাড়িতেই মিমি চক্রবর্তী অপেক্ষা করতে থাকেন। এরপর তিনি পৌনে বারোটা নাগাদ স্টেজে ওঠেন। দুটো গান গাওয়ার পর তাঁকে নেমে যেতে বলা হয়।
এদিন মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন তনয় শাস্ত্রী। সূত্রের খবর বনগাঁর নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘে অনুষ্ঠান করার জন্য মিমি ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তনয় শাস্ত্রী সেই টাকা ফেরত চেয়েছেন বলেই জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমের কাছে। শুধু তাই নয়, অকারণ তাঁর নামে মিথ্যে মামলা করে কাঠগড়ায় তুলেছেন বলে তিনি মিমি চক্রবর্তীর নামে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা করেছেন। তারপরই এই তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রীর আপ্ত সহায়ক।
কী নিয়ে সমস্যার সূত্রপাত? ২৫ জানুয়ারি বনগাঁর নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘে তাঁর একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে পৌঁছতে তাঁর ঘণ্টাখানেক দেরি হয়। এরপর তৈরি হয় মিমি মঞ্চে ওঠেন। বরাবরের মতোই প্রচুর দর্শক তাঁকে দেখতে, তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে উন্মুখ হয়ে ছিলেন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের মাঝে মিমিকে মঞ্চ থেকে কার্যত জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয়। সমাজমাধ্যমে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
