'চিরসখা' ধারাবাহিকে কমলিনীর ছোট ছেলের বউ, মিটিলের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছিল লাভলি মৈত্রকে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সামলিয়েও তিনি এই চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। এবং দর্শকদের মনও জেতেন। কিন্তু এবার আবারও তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে সোনারপুর থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। ফলে আগামী এক, দেড় মাস চরম ব্যস্ততা, ভোটের প্রচারে কাটবে তাঁর। এই অবস্থায় কি তিনি 'চিরসখা' ছেড়ে দিচ্ছেন? জল্পনা রটতেই আজকাল ডট ইনকে কী জানালেন অভিনেত্রী?
'চিরসখা' ধারাবাহিক ছাড়ছেন লাভলি। হ্যাঁ, তিনি নিজেই এই জল্পনায় সিলমোহর দিয়েছেন। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, "অবশ্যই মিস করব। ওটাও আমার খুব ভাল লাগার জায়গা। ওখান থেকে অনেক মানুষের ভালবাসা আমি পেয়েছি। আমার ক্ষেত্রে সন্ধ্যা বেলায় টিভির পর্দায় দেখা আর সকালবেলায় বাড়ির দরজায় দেখা কিন্তু খুব ভাল ভাবে মিলেমিশে গেছে। আমি অনেকের কাছ থেকে এই ফিডব্যাকও পেয়েছি যে কোনও বাড়ির কাকিমা বা পিসিমা বলছেন, 'ও তুমি চলে এসেছ, তোমায় তো রাতেও টিভিতে দেখব।' এগুলো খুব ভাল লাগে শুনতে। ছোট ছোট ফিডব্যাক এগুলো। কিছুদিনের বিরতি আমাকে নিতেই হবে। তারপর আশা রাখি আবার কোথাও নতুন ভাবে দেখা হবে নিশ্চই।"
প্রসঙ্গত, 'চিরসখা' ধারাবাহিকের গল্পে কিছু দিন আগেই দেখানো হয়েছে বাবিলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে মিটিলের বিয়ে হয়েছে। সে এখন কমলিনীদের বাড়ির সদস্য। যদিও বিগত বেশ কয়েকটি পর্ব ধরেই তাঁকে আর দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে জানা গেল ভোটের জন্য তিনি ধারাবাহিক ছেড়ে দিচ্ছেন। এবার তাঁর জায়গায় নতুন কেউ আসবেন, নাকি চরিত্রটি শেষ করে দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বা প্রযোজনা সংস্থার তরফে কোনও কিছু জানানো হয়নি।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে ছিল। কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছিল একাধিক নতুন তারকা টিকিট পেতে পারেন। কিন্তু আদতে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতে দেখা গেল হাতে গোনা কয়েকজন তারকাই মাত্র প্রার্থী হয়েছেন। আর তাঁদেরই অন্যতম হলেন লাভলি মৈত্র। এই বিষয়ে তাঁর মত, "কে কোথা থেকে প্রার্থী হবেন সেটা একমাত্র দলীয় সিদ্ধান্ত। দলের সুপ্রিমো, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিক করে। এটা নিয়ে যে কেউ যাই জল্পনা, কল্পনা করুক, কুৎসা করুক, অপপ্রচার করুক, সেগুলো কখনই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ হয় না। ফলে এগুলো আমায় কখনই খুব একটা বিচলিত করে না। আমাকে নিয়েও অনেক জল্পনা, কল্পনা হয়েছিল। কিন্তু দিনের শেষে এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ দলের ব্যাপার। দল যতক্ষণ না কোনও সিদ্ধান্ত জানাচ্ছে, ততক্ষণ কিছুই সঠিক নয়।"
