২০২৫-এর ব্লকবাস্টার সাফল্যের পর ২০২৬-এর মার্চে মুক্তি পেয়েছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। ইতিমধ্যে বক্সঅফিসের রেকর্ড গড়েছে আদিত্য ধর পরিচালিত এই ছবি। রণবীর সিং, আর. মাধবন এবং অর্জুন রামপালের মতো তারকাখচিত এই ছবিতে অন্যতম চরিত্রে রয়েছেন সঞ্জয় দত্ত। করাচির দুঁদে পুলিশ অফিসার চৌধুরী আসলামের চরিত্রে সঞ্জয় দত্তের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছেন খোদ আসলামের স্ত্রী নওরীন আসলাম। তবে এই ছবি নিয়েই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। স্বামী ভাবমূর্তি নষ্টের অভিযোগ তুলে ছবির নির্মাতাদের আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন তিনি। সঙ্গে ২৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

নওরীন আসলামের অভিযোগ, এই সিনেমায় চৌধুরী আসলাম খানের জীবনকে ভুলভাবে দেখানো হয়েছে। বাস্তবে তিনি যেমন ছিলেন, ছবিতে তা সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। বরং কিছু ঘটনা ও চরিত্র এমনভাবে দেখানো হয়েছে, যা তাঁর সম্মান ও পরিচিতিকে নষ্ট করতে পারে। তাঁর স্ত্রীর মতে, একজন সাহসী ও দায়িত্বশীল অফিসারের ভাবমূর্তি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আইনি নোটিসে বলা হয়েছে, ছবির কিছু দৃশ্য ও সংলাপ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ ভুল ধারণা পেতে পারেন। এতে মনে হতে পারে যে চৌধুরী আসলাম খানের কাজ বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল, যা আসলে সত্য নয়। এই কারণেই তাঁর পরিবার ক্ষুব্ধ।

চৌধুরী আসলাম খান পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি বহু কঠিন অভিযানে অংশ নিয়েছেন এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখেছিলেন। তাঁর সাহসিকতার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের কাছেও সম্মানিত ছিলেন। তাই তাঁর জীবন নিয়ে তৈরি ছবিতে যদি ভুল তথ্য দেখানো হয়, তাহলে তা অনেকের কাছেই অপমানজনক বলে মনে হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ছবির এই ধরনের উপস্থাপনা বন্ধ করতে হবে, নাহলে তারা আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাবেন। ২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আদালতে মামলা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ছবির নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই বিতর্ক যে দ্রুত বড় আকার নিতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।