২০১২ সালের সাইফ আলি খান, দীপিকা পাড়ুকোন এবং ডায়ানা পেন্টির সেই ব্লকবাস্টার রোম্যান্টিক-কমেডি ‘ককটেল’-এর নস্টালজিয়া মনে আছে? দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে সেই ম্যাজিক, তবে একদম নতুন গল্প আর নতুন তারকাদের হাত ধরে। আগামী ১৯শে জুন, ২০২৬ বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়েল ‘ককটেল ২’। আর মুক্তির মাত্র পাঁচ দিন আগে ছবিটিকে ঘিরে বিনোদন দুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। সেন্সর বোর্ড বা সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন-এর পক্ষ থেকে ছবিটিকে সটান ‘এ’  শংসাপত্র (কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য) দেওয়া হয়েছে!

চলতি বছরে শাহিদ কাপুরের ব্যাক-টু-ব্যাক অ্যাডাল্ট ছবি এবং কৃতি শ্যাননের কেরিয়ারের একদম প্রথম ‘এ’ রেটেড ছবি হিসেবে ‘ককটেল ২’ ইতিমধ্যেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল চর্চা তৈরি করেছে।

পরিচালক হোমি আদাজানিয়া এবং প্রযোজক দীনেশ ভিজনের এই নতুন ছবিটির দৈর্ঘ্য ১৫০ মিনিট (২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট)। মজার বিষয় হল, ২০১২ সালের মূল ‘ককটেল’ ছবিটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৪৬ মিনিট। অর্থাৎ, পুরনো ছবির তুলনায় সিক্যুয়েলটি মাত্র ৪ মিনিট দীর্ঘ হতে চলেছে। আধুনিক সম্পর্কের জটিল টানাপোড়েন এবং চমৎকার মিউজিক অ্যালবামের ট্র্যাডিশন বজায় রেখেই তৈরি হয়েছে এই আড়াই ঘণ্টার রোম্যান্টিক ড্রামা।

 

এ ছবির জন্য সেন্সর বোর্ডের এই ‘এ’ শংসাপত্র কাস্টিংয়ের তিন প্রধান চরিত্রের জন্য তিন ধরনের মাইলফলক তৈরি করেছে -

কৃতি শ্যানন: ‘হিরোপন্তি’ (২০১৪), ‘বরেলি কি বরফি’ (২০১৭), ‘মিমি’ (২০২১) কিংবা ‘তেরি বাতোঁ মেঁ অ্যায়সা উলঝা জিয়া’ (২০২৪)-এর মতো ক্লিন ফ্যামিলি এন্টারটেইনার ছবির জন্য পরিচিত কৃতির কেরিয়ারে ‘ককটেল ২’-ই হল প্রথম অ্যাডাল্ট-রেটেড সিনেমা।


রশ্মিকা মন্দানা : তেলুগু ও হিন্দি সিনেমার ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’ রশ্মিকার জন্য এটি অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালে রণবীর কাপুরের সঙ্গে ওঁর ব্লকবাস্টার ছবি ‘অ্যানিমেল’-এর পর এটি ওঁর দ্বিতীয় হিন্দি ছবি যা ‘এ’ শংসাপত্র পেল।


শাহিদ কাপুর : এই ত্রয়ীর মধ্যে শাহিদই সবচেয়ে অভিজ্ঞ। ওঁর কেরিয়ারের পঞ্চম ‘এ’ সার্টিফাইড ছবি হতে চলেছে এটি। এর আগে ‘কামিনে’ (২০০৯), ‘উড়তা পাঞ্জাব’ (২০১৬), ‘কবীর সিং’ (২০১৯) এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে মুক্তি পাওয়া ‘ও রোমিও’ (২০২৬) ছবিতে এই স্বাদ পেয়েছেন তিনি। তবে ‘ও রোমিও’-র ঠিক পরপরই ‘ককটেল ২’ আসায়, শাহিদের দীর্ঘ কেরিয়ারে এই প্রথমবার তিনি টানা দু'টি অ্যাডাল্ট ছবি উপহার দিতে চলেছেন।


ছবির ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই বলিপাড়ায় জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, ছবিতে কৃতি ও রশ্মিকার চরিত্রের মধ্যে সম্ভবত মহিলা সমকামী অর্থাৎ  লেসবিয়ান সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে এই গুজবের রহস্য ফাঁস করে পরিচালক হোমি আদাজানিয়া বলেন, “এই গুজবের সূত্রপাত আসলে আমাদের সেট থেকেই। আমরা সবাই একদিন সেটে একসঙ্গে বসেছিলাম। কৃতি আর রশ্মিকা যেহেতু খুব ভাল বন্ধু, তাই ওঁরা একে অপরকে একটু জড়িয়ে ধরে বসেছিল। তখনই আমরা মজা করে একটা কাল্পনিক পরিস্থিতি ভাবলাম— কেমন হতো যদি গল্পটা ওঁদের দু'জনকে নিয়ে হতো আর শাহিদ কাপুর মাঝখানে তৃতীয় ব্যক্তি হতো? আমি মজা করেই তখন জানিয়েছিলাম, তেমন কোনও ছবি বানাতে আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। ব্যস! ওখান থেকেই এই রটনা শুরু।”

পরিচালক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এটি একটি খাঁটি এবং জটিল ‘লাভ ট্রায়াঙ্গেল’ বা ত্রিকোণ প্রেমের গল্প, যেখানে একজন পুরুষকে (শাহিদ) দুজন নারীর (কৃতি ও রশ্মিকা) মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে।