তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ৷ যোগ্যতা না দেখেই পরিচিতি বা অন্য কোনও কারণে অনুষ্ঠান পাইয়ে দেওয়া। নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে ব্রাত্য করে রাখা আরও বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে৷ এই প্রসঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, দেখুন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এগুলো নিয়ে ওয়াকিবহাল, সম্মানীয় প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন পূর্ণিমা চক্রবর্তী মহাশয়া। পরিচ্ছন্ন করা চলছে, তাই সময় লাগছে।"
রুদ্রনীল বলেন, "আর সামান্য কয়েকদিনের একটা অপেক্ষা, ম্যাক্সিমাম ১৫ দিন এক মাস, তার মধ্যে এই ঝড় কেটে যাবে। আগে রাজনৈতিক নেতৃত্বরা বিচার করে দিতেন কে আমার মিছিলে যাবে, আমি কাল চাল বা ডাল বা চাকরি চুরি করব কিন্তু আমার পাশে হেসে দাঁড়াবেন সেই বিখ্যাত শিল্পী, যাকে আমি সাবানের মতো ব্যবহার করে আমার কলঙ্কিত অধ্যায়গুলোকে ধুয়ে নেব। কারণ শিল্প এবং শিল্পী প্রিয় বাঙালি একটু গলে যায় শিল্পীকে দেখলে বড় আদর করতে ইচ্ছে করে। এই ভেবে তারা সাবানের মতো ব্যবহার করেছে। হ্যাঁ, কিছু শিল্পী ছিলেন, কিছু লেখক ছিলেন, কিছু সাহিত্যিক ছিলেন। যারা হাম্বা রাম্বা সাম্বা কবিতা বলা হয়েছে, যাদের উপন্যাস, সাহিত্য, কবিতা পড়ে আমরা বড় হয়েছি, হাততালি দিয়েছি, তাদের শিক্ষক মেনেছি। তারাও ব্যক্তিস্বার্থে তাদের ওই মঞ্চে বসে হাততালি দিয়ে নিজের গুণকে তারা আহত করেছেন, রক্তাক্ত করেছেন। আমাদের কষ্ট হয়েছে বইকি।"
সরকারি অনুদান প্রসঙ্গে রুদ্রনীল বলেন, " বিভিন্ন রকমের সরকারি অনুদান বহু গোষ্ঠী, বহু ব্যক্তি তাদেরকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্ধেক ভুয়ো নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলত বঞ্চিত হয়েছেন যোগ্যরা। শিল্পমাধ্যমের ভেতরের আন্দোলনটা বাইরের মানুষ জানতে চান না, তারা শুধুমাত্র শিল্পীদের থেকে পারফরম্যান্স দেখতে চান, কবির থেকে কবিতা শুনতে চান, সাহিত্যিকের থেকে একটা সুন্দর উপন্যাস চান— তারা কিন্তু তাদের এই ভেতরের যে যন্ত্রণাটা জানেন না৷ কলমে জোর থাকলেও কলমে যেমন কালি না থাকলে লেখা পড়ে না, ঠিক তেমনি শিল্পস্নিগ্ধ মন থাকলেও যদি পেটে ভাত না থাকে, হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়াজির বাঁশিতে যেমন ফুঁ দেওয়া সম্ভব হতো না, ঠিক তেমনি পন্ডিত রবিশঙ্করজি সেতারে ওই টান কি টানতে পারতেন? কোনো শিল্পী কি লিখতে পারতেন? তিনি তো অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতেন বা মারা যেতেন।"
রুদ্রনীল বলেন, "আমফানের সময় যেভাবে চাল চুরি হয়েছে, আবাস যোজনায় যাদের তিন-চারটে করে অট্টালিকা তারা ঘরগুলো পেয়েছেন, এইভাবে পাইয়ে দেওয়া চলেছে। তাই যারা পাননি এবং অত্যন্ত যোগ্য তারা তাদের যন্ত্রণার কথা নতুন সরকারকে বলছেন এবং এই কারণে বলছেন তারা একটা বিশ্বাস রাখছেন যে, এই সরকার আমাদের সরকার।"
রুদ্রনীল আরও বলেন, "আমরা থিয়েটারে পারফর্ম করলাম, কি একটা লেখা লিখলাম, হয়তো ১০০ টাকা ন্যূনতম একটা পারিশ্রমিক আমার হাতে তুলে দেওয়া হল। কিন্তু যদি শিল্পী মনে করেন যে আমি পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারিনি, আমি আজ স্টেজে দাঁড়িয়ে ঠিকমতো অভিনয় করতে পারিনি, ১০০ টাকাটা নিয়ে ঘুমোতে পারে না, খেতে পারে না। এটা অনেকেই জানেন না। এটা অন্য আর পাঁচটা কাজের মতো ফর্মুলায় তৈরি কাজ নয়। তাই অত্যন্ত বিবেচনার সঙ্গে, অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এই কাজটি ঝাড়াই বাছাই শুরু করেছেন।"
রুদ্রনীল বলেন, "১৫ বছর এবং তার সঙ্গে আরও ৩৪ বছর, প্রায় ৫০ বছর ধরে এই শিল্পের রাস্তায় দখলদারি বিভিন্ন রকম হয়েছে। 'কালচারাল ক্যাপিটাল অফ ইন্ডিয়া' বলা হয় আমার এই মাটিকে। আমাদের বাড়িতে খাটের নিচে অন্যান্য রাজ্যের মতো পুরোনো জামাকাপড় পাওয়া যায়, চাল পাওয়া যায়, আলু পেঁয়াজও পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু অন্য অনেক রাজ্যে যা পাওয়া যায় না, এই মাটিতে সেই পাওয়া যায়। খাটের নিচে একটা রিড ভাঙা হারমোনিয়াম পাওয়া যায়, একটা খোল ভাঙা তবলা পাওয়া যায়। ঘরের কোণে একটা তার ছিঁড়ে যাওয়া সেতার বা গিটার আর দেওয়ালে মা বা ঠাকুমার ক্রুশের কাজ করা একটা টিয়াপাখি যার লাল ঠোঁট, নিচে লেখা 'ভালো থেকো' পাওয়া যায়৷ তথ্য সংস্কৃতি বিভাগের সঙ্গে কোথাও একটা আবেগ জড়িয়ে আছে। তো তাই, সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রেখে দিয়েছেন এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে নতুন অফিসাররাও আসছেন।"















