টলিউডের আকাশে শোকের মেঘ আরও ঘনীভূত। প্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কেবল এক অপূরণীয় ক্ষতিই নয়, বরং রেখে গিয়েছে একরাশ অমীমাংসিত প্রশ্ন। চিত্রনাট্যে যা ছিল না, সেই ‘অঘটন’ কেন ঘটল? এই রহস্যের মাঝেই এখন অনিশ্চয়তার মুখে রাহুলের শেষ কাজ— মেগা ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’।
রাহুলের চলে যাওয়ায় এই ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে। সত্যিই কি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র চিত্রনাট্যে গভীর সমুদ্রে গিয়ে দৃশ্য রাখা ছিল না? তাছাড়া, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র ভবিষ্যৎ ঠিক কী এখন? কারণ মঙ্গলবার শুটিং শুরু হয়নি৷ টালিগঞ্জের মুভিটন স্টুডিওতে খাঁ খাঁ করছে স্টুডিও। এদিন সেখানে ধারাবাহিকের কোনও কলাকুশলী ও অভিনেতারা আসেননি। ইতিমধ্যে টালিগঞ্জের একাংশ পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছে। অনেকে আবার চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজনা সংস্থার তরফে রাহুলের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি তুলেছেন। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, দুর্ঘটনার সময় তিনি স্পটে ছিলেন না। পুলিশি তদন্ত চলছে, তাই এই মুহূর্তে তিনি মন্তব্য করতে নারাজ।গোটা বিষয়টি জানতে ধারাবাহিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আজকাল ডট ইন।
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ও গিয়েছিলেন তালসারির আউটডোরের শুটিং-এ৷ সেই অভিশপ্ত রবিবারও হয়েছিল তাঁদের শুটিং৷ তবে তাঁর প্যাকআপ হয়ে গিয়েছিল বেলা ৩টে নাগাদ এবং তারপর তিনি হোটেলে চলে আসেন৷ সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে, লাগেজ গুছিয়ে তাঁরা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ৷ ফেরার পথে তালসারির দুর্ঘটনার কথা জানতে পারেন তাঁরা এবং রাহুল যে আর নেই!
শুধু তাই নয় আজকাল ডট ইন-কে বর্ষীয়ান অভিনেতা আরও “রাহুলের মৃত্যুর কারণ আমার কাছে এখনও এক ধোঁয়াশা। কারণ, চিত্রনাট্যে সত্যিই ছিল না গভীর জলে গিয়ে শুট করার দৃশ্য। রাহুল-শ্বেতা সৈকতের জলে পা ভিজাবে, পরস্পরের শরীরে খেলার ছলে জল ছিটিয়ে দেবে...সেই জল রাহুলের চোখে ঢুকে যাবে। রাহুল মুখেচোখে জল মুছছে -এই ফাঁকে শ্বেতা লুকিয়ে পড়বে আর রাহুল তাকে চিৎকার করে ডাকবে, খুঁজবে...স্রেফ এতটুকু ছিল। মানে মিষ্টি রম-কম ব্যাপার আর কী! সেখান থেকে কী যে হল। কেন যাওয়া হল সমুদ্রের গভীরে, আমি সত্যিই জানি না। কার নির্দেশে, কে চেয়েছিল ওরকমভাবে দৃশ্যের শুটিং করতে -এসব সত্যিই আমার জানা নেই।"
আর ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র ভবিষ্যৎ? প্রশ্ন শুনে খানিক চুপ বর্ষীয়ান অভিনেতা। তারপর অস্ফুট স্বরে বলে উঠলেন, “দেখুন, আজ আপনার সঙ্গে যে কথা বলছি, এই এখনও পর্যন্ত কল টাইম পাইনি। আজ টেলিকাস্ট হয়েছে এই ধারাবাহিকের একটি পর্ব। আগামীকাল আর বড়জোর পরশু পর্যন্ত হবে সম্প্রচার যদি নতুন করে শুটিং শুরু না হয়। কারণ ধারাবাহিকের দু'তিনদিনের বেশি এপিসোড ব্যাঙ্কিং থাকে না। তাই জানি না...হয়তো এই ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার হয়তো আজ রাতেই শুটিংয়ের কল টাইম পেলাম।”
রাহুল অভিনীত চরিত্রটির কী হবে? “দেখুন, আমি প্রযোজকও নই, পরিচালকও নাই, চিত্রনাট্যকারও নই। সুতরাং দিই কীভাবে এই প্রশ্নের জবাব? আর রাহুল...জানি না ওকে নিয়ে কী বলব। ওর শেষযাত্রায় যাইনি আমি। ওকে ওইভাবে দেখতে পারব না বলেই। আমার পরিচিতি কারওরই মৃত্যু হলে তাঁর শেষযাত্রায় আমি যাই না। ওই দৃশ্য আমি সহ্য করতে পারি না।”
স্টুডিও পাড়ায় গুঞ্জন— তবে কি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র যাত্রা এভাবেই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে? উত্তরের অপেক্ষায় লক্ষ লক্ষ দর্শক।














