প্রযোজক সুমন সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল তিনি কারও ফোন ধরছেন না, তাঁকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এবার সরাসরি সেই অভিযোগের উত্তর দিলেন সুমন সেনগুপ্ত৷ ফেসবুকে তিনি লিখলেন,
"আমি সুমন সেনগুপ্ত, SSG এন্টারটেইনমেন্ট-এর প্রোডিউসার ও প্রোমোটার। ২০১৮ সাল থেকে টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি।
গতকাল একটি পোস্ট ছড়িয়েছে যেখানে দাবি করা হয়েছে যে আমাকে নাকি কেউ খুঁজে পাচ্ছে না এবং আমি নাকি ফোন রিসিভ করছি না। বিষয়টি বেশ হাস্যকর, কারণ গত মাসেই বিশিষ্ট পরিচালক অঞ্জন কাঞ্জিলাল “সাজঘর” নিয়ে আলোচনার জন্য আমাকে তাঁর বাড়িতে দেখা করতে মেসেজ করেছিলেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি জানিয়েছিলাম এবং তাঁর সময় চেয়েছিলাম, কিন্তু আর কোনও উত্তর পাইনি।
এখন ২০১৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত আমার যাত্রাপথ সম্পর্কে কিছু বলি—
২০১৯ সালে আমি “মুখোশ” প্রযোজনা করি, পরিচালক অর্ঘ দীপ চট্টোপাধ্যায়। ছবিটির বাজেট ছিল ৭৫ লক্ষ টাকা, কিন্তু থিয়েট্রিক্যাল কালেকশন হয় মাত্র ১০ লক্ষ টাকা—ফলে ৬৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। তখন অনেকেই বলেছিলেন, এই টাকাটাই ছিল আমার ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশমূল্য।
এরপর ২০২০ সালে আমি “ম্যাজিক” প্রযোজনা করি, পরিচালক রাজা চন্দ। বাজেট ছিল ১.৪০ কোটি টাকা। থিয়েট্রিক্যাল কালেকশন হয় ৪২ লক্ষ টাকা, এবং ডিজিটাল রাইটস ১ কোটি টাকায় বিক্রি করে প্রজেক্টটি ব্রেক-ইভেনে নিয়ে আসি।
২০২১ সালে আমি রক্তিম চট্টোপাধ্যায় (নেক্সটজেন ভেঞ্চার)-এর সঙ্গে যৌথভাবে “জতুগৃহ” প্রযোজনা করি, পরিচালক সপ্তাশ্ব বসু। এই প্রজেক্টটিও ব্রেক-ইভেন হয়।
এরপর আমি বড় প্রজেক্ট “সাজঘর” হাতে নিই, পরিচালক অঞ্জন কাঞ্জিলাল, বাজেট ৪ কোটি টাকা (২০২১)। আমরা লিড অ্যাক্টর হিসেবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (বুম্বাদা)-কে অ্যাপ্রোচ করি, কিন্তু তিনি বারবার এই প্রজেক্টে না করেন, কারণ অঞ্জন কাঞ্জিলালের কমার্শিয়াল ফিল্ম ডিরেকশনে অভিজ্ঞতা কম। একজন প্রযোজকের দৃষ্টিকোণ থেকে তখন প্রজেক্টটি বন্ধ করে নতুন প্রজেক্ট শুরু করাই উচিত ছিল—এটাই ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত নিয়ম।
তবুও আমি আমার পরিচালকের পাশে দাঁড়াই। শারীরিক, সৃজনশীল এবং আর্থিকভাবে লড়াই করে মুম্বই থেকে একটি স্টোরিবোর্ড তৈরি করাই, শুধুমাত্র প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে রাজি করানোর জন্য। অবশেষে ২০২২ সালের আগস্টে তিনি প্রজেক্টে সই করেন এবং ডিসেম্বর ২০২২-এ শুটিং শুরু হয়।
এখন “সাজঘর”-এর প্রকৃত গল্প—
প্রি-প্রোডাকশনের সময় আমরা মুর্শিদাবাদে একটি লোকেশন ফাইনাল করেছিলাম, কিন্তু শুটিংয়ের মাত্র চার দিন আগে সম্পত্তির মালিক সেটি বাতিল করেন, লিড অ্যাক্টরের আগের একটি ফিল্ম প্রোমোশন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে। একজন প্রযোজকের দৃষ্টিকোণ থেকে তখন আবারও প্রজেক্টটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত ছিল।
তবুও আমি আবার পরিচালকের পাশে দাঁড়াই এবং পৈলানে একটি সেট নির্মাণ করি, যার জন্য অতিরিক্ত ২৫–৩০ লক্ষ টাকা খরচ করতে প্রস্তুত ছিলাম।
এই সব অপ্রত্যাশিত সমস্যার কারণে পোস্ট-প্রোডাকশন এবং রিলিজ প্রক্রিয়ায় দেরি হয়েছে।
এবার বকেয়া পেমেন্ট প্রসঙ্গে—
শুটিংয়ের পর শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের (পরিচালকসহ) ৯০% পেমেন্ট করা হয়েছে। বাকি ১০% ফান্ডের সীমাবদ্ধতা ও চুক্তিগত শর্তের কারণে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা সকলকে আশ্বস্ত করেছি যে ডাবিং পর্বে এবং রিলিজের আগে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে, চুক্তি অনুযায়ী।
আমরা টানা তিনটি ছবি প্রযোজনা করেছি এবং বর্তমানে আমাদের কোনও বকেয়া নেই। তাই রিলিজের আগে সব পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হবে।
আমাদের প্রোডাকশন হাউস (SSG এন্টারটেইনমেন্টস ও বিগ স্ক্রিন প্রোডাকশনস)-এর তরফে থিয়েট্রিক্যাল রিলিজে দেরি প্রসঙ্গে—
একজন প্রযোজকের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমায় আবদ্ধ নই। যদি কেউ এই প্রজেক্টটি নিতে চান, তাহলে তাঁদের আমাদের (SSG ও BSP)-এর বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধ করে প্রজেক্টটি এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও লিখেছেন,
সিনেমায় দেরি হওয়া নতুন কিছু নয়।
“পথের পাঁচালী” (১৯৫৫), পরিচালনা সত্যজিৎ রায়—ব্যক্তিগত, আর্থিক ও প্রোডাকশন সমস্যার কারণে ৫ বছরের বেশি সময় লেগেছিল, তবুও এটি একটি কালজয়ী সৃষ্টি।
“পাকিজা” (১৯৭২), পরিচালনা কমল আমরোহি—১৪ বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল, তবুও এটি একটি ক্লাসিক।
“ধূমকেতু” (২০২৫) ছবিটি ১০ বছর দেরিতে মুক্তি পেয়েছে। আমরা কৃতজ্ঞ লিড অ্যাক্টর দেব দা-র কাছে, যিনি সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে ছবিটি মুক্তির জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন।
আপনাকে স্যালুট দেব দা, এই উদ্যোগের জন্য।
সিনেমা শুধু ব্যবসা নয়—এটি বিশ্বাস, ঝুঁকি এবং অধ্যবসায়ের নাম। কঠিন সময়ে আমি পিছিয়ে যাইনি—আমি দাঁড়িয়েছি, বিনিয়োগ করেছি এবং কাজ সম্পন্ন করেছি।
তাই পরিষ্কারভাবে বলছি—
অভিযোগ তোলার আগে বা ভুল তথ্য ছড়ানোর আগে, দয়া করে সত্যতা যাচাই করুন।
এই ইন্ডাস্ট্রি কাজকে সম্মান করে—গসিপকে নয়।"















