নিজস্ব সংবাদদাতা: একদিকে আরজি কাণ্ড নিয়ে দেশ জুড়ে চলছে প্রতিবাদ-আন্দোলন। অন্যদিকে, হেমা কমিটির রিপোর্টকে কেন্দ্র করে তোলপাড় মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রি। এরই মধ্যে টলিপাড়ায় একের পর এক যৌন হেনস্থার ঘটনা সামনে আসছে। অরিন্দম শীল থেকে জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ। সেই আবহে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে যৌন হেনস্থা রুখতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে নবান্নে যাচ্ছেন অভিনেত্রী! সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দু’জনের দেখা হতে পারে।  

গত ২৬ আগস্ট হেমা কমিটির রিপোর্টের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন ঋতাভরী। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, অতীতে টলিপাড়ায় যৌন হেনস্থা শিকার হয়েছেন তিনি। নিজের পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে যৌন হেনস্থার রুখতে তদন্ত এবং পদক্ষেপ করার অনুরোধ করেন ঋতাভরী। অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে লিখেছিলেন, 'দিদি, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতেও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে, এখনই। আরও একটি ধর্ষণ বা যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটে যাক আমরা চাই না। রুপোলি দুনিয়ায় রয়েছি বলে, পুরুষেরা আমাদের পণ্য বা তাদের যৌনতৃষ্ণা মেটানোর মাধ্যম হিসাবে দেখবে, এটা হতে পারে না।'

উল্লেখ্য, বাংলায় নারী সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ কমিটি তৈরির বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মনে করা হচ্ছে, সেজন্যই হয় তো মমতার ডাকে নবান্নে যাচ্ছেন ঋতাভরী। এখন অভিনেত্রীর সঙ্গে নারী নিরাপত্তা বা বিশেষ কমিটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী আলোচনা হয় সে দিকেই থাকবে নজর।  

অভিনেত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগে গত শনিবারই পরিচালক অরিন্দম শীলকে তলব করেছিল রাজ্য মহিলা কমিশন। সেদিন রাতেই অরিন্দমকে সাসপেন্ডে করে পরিচালকদের গিল্ড। এদিকে অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও কাজ পাইয়ে দেওয়ার আছিলায় সহবাসের অভিযোগ করেছেন এক মডেল। এই পরিস্থিতিতে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে টলিউডের দুই প্রযোজকের বিরুদ্ধে ঋতাভরী অভিযোগ করতে পারেন বলে সূত্রের খবর।