ঈদের একটি নাটকের শুটিং ঘিরে দুই জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রীর মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এখন বিনোদন জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আরও ভাল করে বললে আলোচনা নয়, শুরু হয়েছে বিতর্ক! শুটিং ফ্লোরের একটি দৃশ্যকে কেন্দ্র করে অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়েছে অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ এবং তানজিন তিশার মধ্যে।
ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে চলা একটি ঈদ নাটকের শুটিং সেটে। সামিয়া অথই ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, একটি দৃশ্যে তাঁকে সহ-অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে চড় মারতে হয়। তাঁর দাবি, পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি খুব হালকা করেই শুটিং চলাকালীন চড় মারেন। কিন্তু দৃশ্যের পরপরই তিশা নাকি তাঁকে মারধর করেন এবং সেটের সবার সামনে নাকি খামচেও দেন! ফেসবুক লাইভেই এরপর অঝোরে কেঁদে ফেলেন অভিনেত্রী ।কোনওরকমে নিজেকে সামলে আবেগতাড়িত কণ্ঠে সামিয়াদাবি করেন, তিশার মারধরের ফলে তাঁর গাল ও চোখ ফুলে যায়। অভিনেত্রীর সন্দেহ, তিশা সম্ভবত নেশাগ্রস্থ ছিলেন। এরপর সামিয়া ন্যায়বিচারের দাবি চেয়ে এও জানান এমন অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়জীবনে আগে হয়নি।
অভিযোগের জবাবে তানজিন তিশা বলেন, "বিষয়টি পেশাদার প্রেক্ষিতের মধ্যেই ছিল। "শুটিং চলাকালীন তিনি কথা বলতে চাননি, কারণ তা প্রযোজনার কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারত। তাঁর মতে, নাটকে তিনি একটি বিশেষভাবে সক্ষম এক নারীর চরিত্রে অভিনয় করছেন, যেখানে কিছু শারীরিক অভিব্যক্তি ও আচরণ চরিত্রের প্রয়োজনেই অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাঁর দাবি, সবকিছুই পরিচালকের উপস্থিতিতে এবং পুরো ইউনিটের সামনে হয়েছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নাটকটির পরিচালক মহম্মদ রাফত মজুমদার রিঙ্কু সংবামাধ্যমকে জানান, এটি মূলত ভুল বোঝাবুঝি। তাঁর কথায়, দৃশ্যটি চরিত্রের প্রয়োজনে রাখা হয়েছিল। হালকা চড় মারার সময় কেউ হয়তো সেটিকে বেশি জোরে মনে করেছেন। তবে ঘটনাটি গুরুতর কিছু নয় বলেই তিনি মনে করেন।
অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিম-ও বলেন, পেশাদার পরিবেশে ছোটখাটো মতবিরোধ ঘটতেই পারে। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটেই যাচ্ছিল প্রায়। পরে তিনি জানতে পারেন, সামিয়া সেট ছেড়ে চলে গেছেন।
এই ঘটনার পর থেকে প্রশ্ন উঠেছে, অভিনয়ের প্রয়োজনে শারীরিক দৃশ্যায়নের সীমা কোথায়? বাস্তব ও অভিনয়ের মাঝের সূক্ষ্ম সীমানা অতিক্রম করলে তার দায় কার? সামাজিক মাধ্যমে লাইভে অভিযোগ তোলার সিদ্ধান্ত কি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে, না কি এটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নকে সামনে এনেছে?
ঈদ উপলক্ষে নির্মিত এই নাটকটি আপাতত মুক্তির অপেক্ষায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, নাটকটি মুক্তি পাওয়ার পর দর্শক এইসব চরিত্র ও দৃশ্যের প্রেক্ষাপট বুঝতে পারবেন। তবে ততদিন পর্যন্ত বিতর্কের রেশ যে থামছে না, তা স্পষ্ট। শুটিং ফ্লোরের একটি দৃশ্য যে এত দ্রুত বাস্তব উত্তেজনায় রুপান্তরিত নিতে পারে, এই ঘটনা আবারও সেই প্রশ্নই সামনে আনল।
