অভিনেত্রী কুবরা সেট বরাবরই স্পষ্ট বক্তা। সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন, যা অনেককেই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। কুবরা জানিয়েছেন যে তিনি 'এডিএইচডি' নামক একটি মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে একে অভিনেত্রী কোনও রোগ বা দুর্বলতা নয়, বরং নিজের 'সুপারপাওয়ার' বা বিশেষ শক্তি বলে মনে করেন।

কুবরার মতে, এডিএইচডি তাঁর সৃজনশীল সত্তাকে এক অনন্য মাত্রা দেয়। তিনি জানান, অনেকেই এই বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখেন, কিন্তু তিনি তাঁর এই বিশেষ মানসিক অবস্থাকে মেনে নিতে শিখেছেন। তিনি মনে করেন, এডিএইচডি-র কারণেই তিনি একইসঙ্গে অনেকগুলো কাজ অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে করতে পারেন এবং জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের চেয়ে আলাদা ও বৈচিত্র্যময়।

তবে এই ইতিবাচক মানসিকতায় পৌঁছনো কুবরার জন্য সহজ ছিল না। তিনি তাঁর থেরাপি বা মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার দীর্ঘ যাত্রার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, "থেরাপি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।" পেশাদার থেরাপিস্টের সাহায্য নিয়ে তিনি নিজের আবেগকে বুঝতে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিখেছেন। কুবরার কথায়, অনেকেই মানসিক চিকিৎসার সাহায্য নিতে দ্বিধা করেন বা একে সামাজিক লজ্জার বিষয় মনে করেন, কিন্তু সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের জন্য থেরাপি অত্যন্ত জরুরি।

সাক্ষাৎকারে কুবরা আরও জানান, বিনোদন জগতের মতো একটি প্রতিযোগিতামূলক এবং অনিশ্চিত ক্ষেত্রে টিকে থাকার জন্য মানসিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তিনি নিয়মিত নিজের মনের যত্ন নেন এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করেন যাতে তারা মনের কথা বলতে দ্বিধা না করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজের দুর্বলতা বা ভিন্নতাকে স্বীকার করে নেওয়াই হল প্রকৃত শক্তির লক্ষণ।

কুবরা সেটের এই অকপট স্বীকারোক্তি বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, তখন তাঁর মতো একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের এই বার্তা অনেকের মনে সাহস জোগাবে। তিনি মনে করিয়ে দিলেন যে, আমাদের মস্তিষ্ক যদি অন্যদের চেয়ে আলাদাভাবে কাজ করে, তার মানে এই নয় যে আমরা অসুস্থ, বরং সঠিক দিশা এবং সাহচর্য পেলে সেই ভিন্নতাই হয়ে উঠতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। 

কুবরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের শর্তে জীবন কাটাতে পছন্দ করেন। তাঁর এই লড়াই আসলে নিজেকে চেনা এবং ভালবাসার এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প।