শুরু হচ্ছে নতুন বাংলা বছর। ১৪৩৩। যতই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবেতে পরিবর্তন আসুক, বাঙালির কাছে পয়লা বৈশাখ আজও এক অনন্য অনুভূতি। হালখাতা, নতুন ক্যালেন্ডারের সুবাসে ম ম করে বাঙালির অন্দরমহল। বাংলা নববর্ষ বলতেই কোন কথা মনে পড়ে সিদ্ধার্থ রায় ওরফে সিধুর? আজকাল ডট ইনকে জানালেন বাংলা ব্যান্ড ‘ক্যাকটাস’-এর গায়ক।
একসময় পয়লা বৈশাখ মানে বাঙালি ব্যবসায়ীদের কাছে ছিল নতুন বছরের নতুন করে হিসাব শুরুর দিন। হালখাতা নামে পরিচিত এই প্রথা ছিল পুরনো বছরের যাবতীয় হিসেব নিকেশ মিটিয়ে নতুন করে ক্রেতা এবং বিক্রেতার পথ চলার প্রতীক। ছোটবেলার স্মৃতির পাতা হাতড়ে সেই প্রসঙ্গে বললেন সিধু। তাঁর কথায়, "ছোটবেলায় পয়লা বৈশাখের সঙ্গে হালখাতার সম্পর্ক ছিল। এলাকার বিভিন্ন দোকানে মায়ের নেমতন্ন থাকত। সেখান থেকে আসত দু-তিনটে মিষ্টির প্যাকেট। মা কখন ফিরবে, প্যাকেটে কী থাকবে তা নিয়ে আগ্রহ থাকত। সাধারণত হালখাতায় দরবেশ, গজার মতো ভাজা মিষ্টি হত যেগুলো সচরাচর বাড়িতে আসে না। তাই উত্তেজনার পারদ বেশি থাকত।”
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য সিধুর পয়লা বৈশাখের ধরন বদলেছে। তিনি বলেন, “বড় হয়ে হালখাতার আর তেমন প্রভাব রইল না। তখন বাড়িতে কিংবা বাইরে অনুষ্ঠান করেছি। আগে থেকে শুট করা টিভি শো হত। সেটার একটা অন্য মজা থাকত।”
পয়লা বৈশাখ মানে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। নববর্ষের কোন নস্টালজিয়া আজও মনে গেঁথে রয়েছে সিদ্ধার্থর? গায়কের কথায়, “পয়লা বৈশাখে পোশাক একটু অন্যরকম থাকত। সেদিন জিন্স আর টি-শার্ট নয়, পাঞ্জাবি পরা চাই। পুজোর শপিংয়ে অন্য কিছু থাকলেও পয়লা বৈশাখে পাঞ্জাবি কেনা হত। এদিন পাঞ্জাবি পরে শো করার চেষ্টা করেছি। ব্যান্ডের অন্যদেরও উৎসাহ দিয়েছি। গানের নির্বাচনেও একটু বাঙালিয়ানা বেশি থাকত।”
লকডাউনের সময়ে পয়লা বৈশাখে 'ক্যাকটাস'-এর এক বিশেষ স্মৃতি নিয়েও অকপট সিদ্ধার্থ। তিনি বলেন, “লকডাউনে পয়লা বৈশাখে বিদেশে একটি সংস্থার কাছ থেকে পারফরম্যান্সের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। গান প্রিরেকর্ড করে পাঠানোর কথা হয়েছিল। অডিটোরিয়ামে রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি, ঘরেই যে যার বাড়িতে যেমন আলোর ব্যবস্থা ছিল. তা দিয়ে বেশ কয়েকটা গান ফোন ক্যামেরায় রেকর্ড করে পাঠাই। লকডাউনের দমবন্ধ পরিবেশে আমাদের কাছে অন্যরকম ব্যাপার ছিল।”
এবারের পয়লা বৈশাখে জমিয়ে ভূরিভোজের প্ল্যান রয়েছে সিধুর। আজ কেমন খাওয়াদাওয়া করবেন 'হলুদ পাখি'-র গায়ক? বেশ মজার ছলে তাঁর উত্তর, “আমি তো খুব ভোজরসিক, পেটুক বললেও চলে। তাই আজ দু’বেলা দু’রকম খাওয়াদাওয়ার প্ল্যান। দুপুরবেলা বাড়িতেই বাড়ির সকলে মিলে খাবো। সন্ধেবেলা আরেকজনের বাড়িতে যাব। বাড়ির মেনুতে থাকছে মটন চম্পারন, পাবদা মাছ, সবজি ডাল, বেগুনি। সন্ধেবেলার পুরো মেনু জানি না, তবে আয়োজনে গন্ধরাজ চিকেন থাকবে।”















