আজকালকের ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং দূষণের কারণে চুলের নানা সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। এই পরিস্থিতিতে বাজারচলতি দামি কেমিক্যালের বদলে অনেকেই ঝুঁকছেন প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে। সম্প্রতি একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চুলের যত্নে ডিমের কার্যকারিতা ও তা ব্যবহারের সঠিক নিয়মের কথা। বিজ্ঞানসম্মতভাবে এর সপক্ষে খুব বেশি অকাট্য প্রমাণ না থাকলেও, যাদের ডিমে অ্যালার্জি নেই, তাদের জন্য এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং বেশ কার্যকরী একটি ঘরোয়া টোটকা বলে মনে করা হয়।
2
6
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, চুলের ধরন অনুযায়ী ডিমের ভিন্ন ভিন্ন অংশ ব্যবহার করা উচিত। যেমন, যাদের চুল অতিরিক্ত শুষ্ক ও প্রাণহীন, তাদের জন্য ডিমের কুসুম অত্যন্ত উপকারী। কুসুমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট, প্রোটিন এবং 'লেসিথিন' নামক একটি ময়েশ্চারাইজিং উপাদান। এছাড়াও এতে থাকা সালফার চুলের গোড়াকে মজবুত ও নরম করতে সাহায্য করে।
3
6
অন্যদিকে, যাদের স্ক্যাল্প বা মাথা অতিরিক্ত তেলতেলে, তাদের জন্য ডিমের সাদা অংশ বেশি উপযোগী। এতে থাকা প্রোটিন এবং বি-ভিটামিন (যেমন নিয়াসিন ও রিবোফ্লাভিন) চুল থেকে অতিরিক্ত তেল ও ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। আর সাধারণ চুলের ক্ষেত্রে পুরো ডিমই ফেটিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেকে বাড়তি পুষ্টির জন্য এর সাথে কলা, মধু, অলিভ অয়েল বা নারকেল তেলও মিশিয়ে থাকেন।
4
6
এই হেয়ার মাস্ক ব্যবহারের একটি সহজ নিয়ম রয়েছে। প্রথমে ২ থেকে ৩টি ডিমের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে, যাতে ডিমের গন্ধ না ছাড়ায়। এরপর মিশ্রণটি হাত দিয়ে চুল ও মাথার স্ক্যাল্পে ভালো করে মেখে নিতে হবে। একটি শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে ২০ মিনিট রেখে দেওয়ার পর মিশ্রণটি শুকিয়ে আঠালো হয়ে যাবে।
5
6
এবারই আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চুল ধোয়ার সময় সবসময় ঠান্ডা বা সাধারণ তাপমাত্রার জল ব্যবহার করতে হবে। কোনওভাবেই গরম জল ব্যবহার করা চলবে না, কারণ গরম জল দিলে ডিম চুলে জমাট বেঁধে 'রান' হয়ে যাবে, যা পরে ধুয়ে পরিষ্কার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। সবশেষে সাধারণ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে নিলেই কেল্লাফতে। মাসে এক বা দুবারের বেশি এই মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
6
6
তবে রূপ বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলে ডিম মাখার চেয়ে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী হতে পারে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩টি ডিম খেলে তা ভেতর থেকে চুলকে পুষ্টি জোগায়। তবে যাদের ডিমে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এই ঘরোয়া টোটকা থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়, অন্যথায় মাথায় চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।