অ্যাপস সংগঠন এবং ইন্দ্রনীল সেন ও শিবাজী চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক শিল্পী গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজেদের পছন্দের শিল্পীদের অনুষ্ঠান দেওয়া, কাটমানির বিনিময়ে অনুষ্ঠান দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। এবার এই বিষয়ে আজকাল ডট ইনকে অভিযোগের উত্তর দিলেন শিল্পী শিবাজী চট্টোপাধ্যায়?
এদিন অ্যাপসের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শিবাজী চট্টোপাধ্যায় বলেন, "সঙ্গীতমেলা তো আমরাই শুরু করি, ১৯৯৭ সালে। অ্যাপস উদ্যোগ নেয়। বুদ্ধবাবুকে রাজি করিয়ে আয়োজন করা একটা বড় ব্যাপার ছিল। ১৯৯৬ সালে তিনি আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন, গান করেছিলেন, মুগ্ধ হয়ে শোনেন। এবং বলেন সঙ্গীতমেলা হবে। কিন্তু যেহেতু সরকারি মেলা সেহেতু আমরা কোনও ভাবে করতে পারব না। সরকার করবে। অ্যাপসের নাম তাই থাকে না কোথাও। কিন্তু আমরাই যে উদ্যোগ নিই, সেটা কোথাও নেই। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় অ্যাপসের সঙ্গীতমেলা এমনটা তো কখনও লেখা হয়নি। যার ফলে অ্যাপস পিছনে থেকে গেল। মেলাটা সরকার করলেও, অ্যাপস সবটাই দেখত। শিল্পী তালিকা থেকে শুরু করে যাবতীয়। অডিশনের জন্য ক্যাসেট জমা দিতে বলা হতো, সেই গান শুনে তার থেকে বিচার কো সুযোগ দেওয়া হতো। সেইভাবে চলে এসেছে।"
সম্প্রতি আজকাল ডট ইনের কাছে গায়িকা পিয়ালী বসু রায়চৌধুরী অভিযোগ করেন তাঁকে সরকারি অনুষ্ঠানে সুযোগ দেওয়া হতো না। এই বিষয়ে শিবাজী চট্টোপাধ্যায়ের জবাব, "পিয়ালী বসু রায়চৌধুরী তো বরাবর গান করে এসেছে সঙ্গীতমেলায়। ও তো কাটমানির কথা বলতেই পারে না। অ্যাপসের থেকেই ওর নাম যেতে, যেহেতু ও সদস্য। ঋদ্ধি ২০২১ সালে একটা অভিযোগ আনে কাটমানি নেওয়ার বিষয়ে। তখন একটা মিটিং করে আমরা সবাইকে জানাই গোটা বিষয়টাই ভিত্তিহীন। কাটমানি নিয়ে গান আমরা শুনিনি কখনও। এই অভিযোগ ওরা তুলেছে, তাই বলছে। এর কোনও সত্যতা দেখাতে পারবে না। যাঁরা সুযোগ পেতেন সবাইকে কি চিনতাম, জানতাম? লিস্টও জানতাম না কারা গাইছে। কিছু ছেলেমেয়ে ছিল যাদের আমরা চিনি। এর বাইরে যারা গাইত তাদের আমিও চিনতাম না। সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়েই শিল্পী ঠিক হতো। সেটাতে আমার কোনও রকম সংস্পর্শ ছিল না।"
বাম আমল এবং তৃণমূল সরকারের সময় শিল্পী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বদল আসে। "পদ্ধতি এক ছিল। বামফ্রন্টের সময় ব্যাপারটা শিল্পীদের হাতে ছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকার এল যখন, আমাকে কমিটি থেকে সরিয়ে দিল। সেই সময় প্রথম বছর আমি সঙ্গীতমেলা বয়কট করি। বলেছিলাম, অ্যাপসের ছেলেমেয়েরা যদি না গায়, আমি থাকব না, গাইব না। যথারীতি আমি গাইনি। পরের বছর ওরা সেটা মেনে নেয়। অ্যাপসের ছেলেমেয়েরা গেয়েছিল, আমিও গেয়েছিলাম। অ্যাপসের বাইরের ছেলেমেয়ে যারা তাদের তো আমি চিনব না, তারা তাদের যোগ্যতায় কীভাবে পাচ্ছে না পাচ্ছে তাদের ব্যাপার। কিন্তু একটা প্রচার হয়ে গেল, অ্যাপসের সদস্য হলেই সঙ্গীতমেলায় গাইতে পারবে। এরম একটা ভুল ধারণা ছড়িয়ে যায়। কিন্তু আমাদের সংগঠনে যাঁরা নাম করেছেন, প্রোফেশনাল গায়ক, গায়িকা, তাঁরাই এর সদস্য হতে পারবেন। এর বাইরে নয়। কিন্তু এটা ছড়িয়ে পড়ার পর শয়ে শয়ে অ্যাপ্লিকেশন আসতে থাকে। সদস্য বাড়িয়ে কী হবে? আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শিল্পীদের ভাল থাকাটা নিশ্চিত করা।", জবাব শিবাজীর।
তিনি আরও বলেন, "যাঁদের সঙ্গীত মহলে অবদান আছে, নামকরা শিল্পী তাঁদের পাশে থাকা। অনেক শিল্পীর পাশে দাঁড়িয়েছি আর্থিক ভাবে। যেমন, সনৎ সিংহ, প্রমুখের পাশে দাঁড়িয়েছি। উৎপলেন্দুর ক্যান্সার হল যখন, বলল ৫ লাখ টাকা খরচ তখন অ্যাপসের তরফে একটা টাকা দেওয়া হল। সনৎ সিংহের অবস্থা যখন খুব খারাপ, ওঁর ছেলেরা বলল আমরা চালাতে পারছি না, তখন আমরা ২০ হাজার টাকা নিয়ে তাঁর বাড়ি গেলাম। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছল খবর। তখন তিনি সব ব্যবস্থা করে দিলেন। এই ভূমিকা ছিল অ্যাপসের। অনুষ্ঠান করানোর কোনও ব্যাপার নয়, শিল্পীদের পাশে থাকা ছিল আসল ভূমিকা। এখানকার সদস্যরা সকলে প্রফেশনাল পারফর্মার, তাঁরা সরকারি অনুষ্ঠানে জন্য তো বসে থাকেন না।"
ফলে অ্যাপসের বিরুদ্ধে যে কাটমানির অভিযোগ উঠেছে সেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন? এমনটাই দাবি শিবাজী চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর কথায়, "কারও কাছে আমাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই। অ্যাপসের শিল্পীদের থেকে কাটমানি নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ এখানে প্রতি বছর মিটিং হয়, অডিট হয়, জেনারেল মিটিং হয়। সেখানে কাটমানি দেবে কোথায় আমাকে? কাটমানির প্রশ্নই ওঠে না। অ্যাপসের সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়, সরকারের পক্ষে সকলকে নেওয়া সম্ভব হল না। অ্যাপসের বাইরেও তো অনেক শিল্পী আছেন। সবাই তো অ্যাপসে আসেননি তখন। তাই বলে তাঁরা গাইবেন না? সরকার তাঁদের নিশ্চয় গাওয়াবে। আমাদের ৫৫০ সদস্যকে সরকারের পক্ষে গাওয়ানো সম্ভব হল না। কিন্তু আমরা কী করব? আমরা টোটাল লিস্ট দিয়ে দিতাম যে এতজন আমাদের সদস্য। সেখান থেকে ওরা বেছে নিত। বাদ দেওয়ার বিষয়ে অ্যাপসের কোনও ভূমিকা থাকত না। নামকরা শিল্পীদের তো সরকার ডাকবেই। নামকরা শিল্পী ছাড়া তো অনুষ্ঠান হবে না। সমস্যা হয় নতুন, উঠতিদের নিয়ে। অ্যাপসের সব শিল্পীকে সুযোগ দিতে পারত না। অ্যাপসে গেলেই সঙ্গীতমেলায় গাওয়া যাবে এটা সম্পূর্ণ তাদের মনগড়া ধারণা। যখনই কাউকে মেম্বারশিপ দিয়েছি, বলেই দিয়েছি অ্যাপস কিন্তু সঙ্গীতমেলায় গাওয়াবার কোনও দায়িত্ব নেবে না। কিন্তু সে কথা কে শোনে! ইয়ং ছেলেমেয়ে তো সব!" এই সময় অ্যাপসের জয়েন্ট সেক্রেটারির পদে ছিলেন সৈকত মিত্র এবং শিবাজী চট্টোপাধ্যায়।
কেবল তিনি নন, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধেও উঠেছে একাধিক অভিযোগ। আজকাল ডট ইনের তরফে তাঁর সঙ্গে বারংবার যোগযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি ফোনে অধরা থেকেছেন। শিবাজী চট্টোপাধ্যায়ের কি কথা হয়েছে তাঁর সঙ্গে? এই বিষয়ে গায়ক বলেন, "ইন্দ্রনীল সেন এখন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে গিয়েছেন। গায়ক হওয়ার পাশেপাশি তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছেন। যতদিন তিনি গায়ক ছিলেন একরকম। রাজনীতিক হয়ে গেলে তার ভ্যালু তো অন্যরকম হবেই। তবে, অ্যাপস নিয়ে কথা হয়েছে। ঠিক করেছি সাংবাদিক সম্মেলন করে অ্যাপস নিয়ে মানুষের ধারণাটা বদলাব। কিন্তু সেটার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে হয় না। ৩৩ বছর ধরে আমাদের মিটিং, অডিট, অ্যাকাউন্ট মেনটেন করা সব হয়েছে। অডিটের প্রমাণ আছে। ছেলেখেলা নয় তো। দ্বিজেন দা, মান্না দা এঁরা সদস্য ছিলেন, প্রেসিডেন্ট ছিলেন অ্যাপসের।"















