মঞ্চেই শুরু, মঞ্চেই বারবার ফেরা। অনির্বাণ চক্রবর্তীর অভিনয় জীবনের ঠিকানা যেন ঘুরেফিরে এখানেই। ‘একেনবাবু’ খ্যাত এই অভিনেতা এই মুহূর্তে টলিপাড়ার ব্যস্ততম নামগুলির একেবারে প্রথম সারিতে। বড়পর্দা থেকে ওয়েব সিরিজ, সব জায়গাতেই দাপুটে উপস্থিতি। তবু সুযোগ পেলেই তিনি ফিরে যান মঞ্চে। কারণটা খুব সোজাসাপটা -মঞ্চই তাঁর অভিনয়ের শিকড়।
দীর্ঘ সময় চেতনা নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অনির্বাণ। ‘মহাত্মা বনাম গান্ধী’ নাটকে তাঁর অভিনয় যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছিল সমালোচকদের কাছে, তেমনই দর্শকের কাছেও। মঞ্চ নিয়ে তাঁর আবেগ এতটাই গভীর যে নাটক চলাকালীন দর্শকের মোবাইল বেজে উঠলে বিরক্তি প্রকাশ করতেও দ্বিধা করেন না তিনি। তাঁর মতে, মঞ্চ কোনও হালকা বিনোদনের জায়গা নয়, এটা একাগ্রতার শিল্প।
&t=1s
আরও একবার সেই মঞ্চেই ফিরছেন অনির্বাণ। হ্যারল্ড পিন্টারের বিশ্বখ্যাত নাটক ‘দ্য কেয়ারটেকার’ বাংলায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছে ‘কেয়ারটেকার’ নামে। প্রযোজনা অন্য থিয়েটার, পরিচালনায় অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। নাটকের বাংলা রূপান্তরও তাঁরই। অনেকদিন পর ফের একবার সেই নাটক নিয়েই মঞ্চে ফিরছেন অনির্বাণ।

আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে কথোপকথনে অনির্বাণ স্পষ্ট বললেন,“আমার অভিনয় জীবনের যত প্রাপ্তি, তার শুরু মঞ্চ থেকেই। এখন হয়তো সিনেমা আর ওয়েব সিরিজের জন্য সময় খুব আঁটোসাঁটো, কিন্তু একটু ফাঁক পেলেই আমি মঞ্চে ফিরি। আর সেটা অর্থোপার্জনের জন্য নয়। নিজের বৌদ্ধিক বিকাশের জন্য। অভিনয় ক্ষমতাকে শান দিতে।”তিনি আরও যোগ করলেন, পর্দায় সবসময় গভীর অভিনয়ের সুযোগ মেলে না। সেই ঘাটতিটাই মঞ্চ পূরণ করে দেয়।
‘কেয়ারটেকার’ নাটকে মোট তিনটি চরিত্র। অনির্বাণ ছাড়াও রয়েছেন তথাগত চৌধুরী ও দেবেশ রায়চৌধুরী। অনির্বাণ অভিনয় করছেন বড় ভাই শঙ্কর-এর চরিত্রে। এক অন্তর্মুখী, কম কথা বলা মানুষ যে প্রায় নিজেকে সমাজ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। কেন এমন সে? তার উত্তর লুকিয়ে রয়েছে চরিত্রটির অতীতেই।
তথাগত অভিনীত চরিত্রটি শঙ্করের সম্পূর্ণ বিপরীত - ফ্ল্যাম্বয়েন্ট, বর্ণময়। আর দেবেশ রায়চৌধুরীর ‘কেয়ারটেকার’ প্রথমে যাকে ভবঘুরে বলে মনে হয়, সে আদৌ কি তাই? নাকি তারও রয়েছে অন্য কোনও মুখ?
নাটকের গল্প প্রসঙ্গে এখনই বেশি কিছু বলতে নারাজ অনির্বাণ। শুধু এটুকু বললেন, “এটা মূলত মনস্তাত্ত্বিক নাটক। মানুষের মনের বিভিন্ন স্তরের ভেতর দিয়ে হাঁটে এই গল্প। একই সঙ্গে সমাজের সামনে আয়নাও তুলে ধরে। নাটকটি অ্যাবসার্ডধর্মী এবং দর্শককে ভাবতে বাধ্য করবে।”
সবশেষে জানালেন,আগামী ১ মার্চ, রবিবার, কলকাতার জ্ঞান মঞ্চে, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মঞ্চে দেখা মিলবে ‘কেয়ারটেকার’-এর।
বড়পর্দা আর ওটিটির ঝলকানির মাঝেও অনির্বাণ চক্রবর্তীর এই মঞ্চে ফেরা যেন আবার মনে করিয়ে দেয়, অভিনয়ের সবচেয়ে গভীর লড়াইটা এখনও আলো-আঁধারির মঞ্চেই।
