পর্দায় 'শোলে'র গব্বর সিংকে দেখে আজও নামজাদা ভিলেনরা পিছু হটে। এই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আমজাদ খান‌। অভিনেতা ১৯৯২ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। কিংবদন্তি এই অভিনেতার দুই ছেলে শাদাব ও সীমাব এবং এক মেয়ে আহলাম, এই তিন সন্তান রয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমজাদ খানের ছেলে শাদাব তাঁর বাবার মৃত্যুর পর নিজের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, বাবার আকস্মিক মৃত্যুর ধাক্কা আর শোক তাঁকে এতটাই স্তব্ধ করে দিয়েছিল যে তিনি রাগের মাথায় ডাক্তারকে পর্যন্ত আঘাত করে বসেছিলেন। তখন শাদাবের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। বাবার মৃত্যুর দিনটির কথা মনে করে শাদাব বলেন, "আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। রাত আটটা নাগাদ যখন বাড়ি ফিরি, তখন আমাকে বলা হয়, ‘বাবা ঘুম থেকে উঠছে না, তুই গিয়ে ওনাকে ডাক।’ আগের দিন একটা মিটিং থাকার কারণে তিনি খুব ক্লান্ত ছিলেন এবং বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তিনি একবার ঘুম থেকে উঠেছিলেন এবং তারপর বিকেলে আবারও ঘুমিয়ে পড়েন। মা আমাকে ওনাকে ডেকে তুলতে বলেন কারণ তিনি কিছুতেই উঠছিলেন না। আমি যখন ওনার কাছে গেলাম, ওনার শরীর পুরো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।"

তড়িঘড়ি একজন ডাক্তারকে ডেকে পাঠানো হলে তিনি জানান যে আমজাদ খান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। শাদাব আরও বলেন, “ডাক্তারবাবু বলেছিলেন একটি বিশেষ ইঞ্জেকশনের প্রয়োজন। আমি সেটি নিয়েও আসি, কিন্তু আমাকে বলা হয় আমি নাকি কয়েক সেকেন্ড দেরি করে ফেলেছি। ডাক্তারবাবু যখন আমাকে বললেন যে ইঞ্জেকশনটা আনতে আমার দেরি হয়ে গিয়েছে, তখন আমি ওনাকে আঘাত করে বসি। আমি ঘরের সব চীনে মাটির বাসন ভেঙে ফেলি, দেওয়ালে সজোরে ঘুসি মারি, এমনকী বাবার একজন খুব কাছের বন্ধুর গায়েও হাত তুলেছিলাম।"

ওই সাক্ষাৎকারে শাদাব আরও মনে করেন যে কীভাবে আমজাদ খানের মৃত্যুর পর সেলিম খান তাঁদের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, “বাবার মৃত্যুর পর আমার মনে আছে বাড়িতে এক চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। অনবরত লোক যাতায়াত করছিল, শেষকৃত্যের আচার-অনুষ্ঠান চলছিল এবং আমার মায়ের মানসিক অবস্থা এমন ছিল না যে তিনি কিছু সামলাবেন। আমার বয়স তখন মাত্র ১৮, আর আমার ভাইবোনরা ছিল আরও অনেক ছোট। তখন সেলিম খান দায়িত্ব নিয়ে সবটা সামলেছিলেন।"

দু'দশকের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে আমজাদ খান ১৩০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর বেশ কয়েকটি ছবি মুক্তি পায়, যার মধ্যে ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া 'কলিঙ্গ' ছিল তাঁর অভিনীত শেষ ছবি।