বলিউডের এইমুহূর্তে অন্যতম আলোচিত অভিনেতা রণবীর সিং-কে নিয়ে গত সোমবার থেকে টিনসেল টাউনে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতি। একদিকে সোমবার ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ (FWICE) অভিনেতার বিরুদ্ধে একটি ‘অসহযোগিতা নির্দেশিকা’  জারি করেছে, যা কার্যত বলিপাড়ায় ওঁর ওপর এক ধরণের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বা শ্যাডো ব্যান। আর এই চরম আইনি ও পেশাদার সংকটের মাঝেই মঙ্গলবার কর্ণাটকের মহীশূরের বিখ্যাত চামুণ্ডেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে দেখা গেল অভিনেতাকে। ‘কান্তারা’ সিনেমার দৈব অবতারের ব্যাঙ্গাত্মক অনুকরণ বা মিমিক্রি বিতর্কে কর্ণাটক হাইকোর্টে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতেই ওঁর এই আকস্মিক মন্দির দর্শন।

 

 

গোয়ায় আয়োজিত ‘আইএফএফআই ২০২৫’ -এর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘কান্তারা’ খ্যাত অভিনেতা-পরিচালক ঋষভ শেট্টি। সেই মঞ্চেই রণবীর সিং পারফর্ম করার সময় ‘কান্তারা’ ছবির বিখ্যাত ‘দৈব নর্তন’ -এর একটি অতিরঞ্জিত অনুকরণ বা মিমিক্রি করেন। শুধু তাই নয়, অসাবধানতাবশত তিনি ‘দৈব’দের ভুলবশত ‘ভূত’ বলে সম্বোধন করে বসেন। এই ঘটনার পর কর্ণাটকের সনাতন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে দাবি করে বেঙ্গালুরুর এক আইনজীবী আদালতের দ্বারস্থ হন এবং রণবীরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই মামলা খারিজের আর্জি নিয়েই কর্ণাটক হাইকোর্টের কড়া নাড়েন রণবীর।

এই বিতর্ক প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই একটি প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রণবীর সিং। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে কোনও সংস্কৃতিকে অসম্মান করার কোনও মানসিকতা ওঁর ছিল না। আবেগঘন বার্তায় রণবীর বলেন, “আমার উদ্দেশ্য ছিল ছবিতে ঋষভের ওই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সকে সকলের সামনে তুলে ধরা। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি জানি ওই নির্দিষ্ট দৃশ্যটি ফুটিয়ে তুলতে কতটা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করতে হয়, যার জন্য ওঁর প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি সবসময়ই আমাদের দেশের প্রতিটি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বিশ্বাসকে গভীরভাবে সম্মান করি। যদি আমার অজান্তে কারও ভাবাবেগে আঘাত লেগে থাকে, তবে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”

 

গত এপ্রিল মাসে রণবীর সিংয়ের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন যে অভিনেতা ওঁর মন্তব্যের জন্য অনুতপ্ত এবং ক্ষমা চাওয়ার অংশ হিসেবে তিনি মহীশূরের চামুণ্ডি হিলস মন্দিরে গিয়ে পুজো দেবেন। তবে গত শনিবার আদালতে অভিনেতার পেশ করা হলফনামা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। হলফনামায় রণবীর লিখেছিলেন, তিনি সুবিধাজনক সময়ে মন্দির দর্শন করবেন, কারণ ওঁর ব্যস্ত শিডিউল এবং নিরাপত্তার কারণে এখনই নির্দিষ্ট তারিখ বলা মুশকিল।

অভিযোগকারীরা এই ‘সুবিধাজনক সময়’ শব্দটিকে অস্পষ্ট বলে দাবি করেন এবং আদালতের কাছে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার অনুরোধ জানান। রণবীরের আইনজীবী নিরাপত্তার অজুহাত দিলে বিচারপতি নাগাপ্রসন্ন কর্ণাটক পুলিশের শক্তির ওপর ভরসা রেখে অভিনেতাকে আশ্বস্ত করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “মামলাটি নিষ্পত্তি করার সময় আমি নথিবদ্ধ করব যে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যেই ওঁকে এই মন্দির দর্শন সম্পন্ন করতে হবে।” আদালতের সেই ডেডলাইন মেনেই আজ তড়িঘড়ি মহীশূরে চামুণ্ডা মায়ের চরণে মাথা নোয়ালেন রণবীর।

ফেডারেশনের নিষেধাজ্ঞা এবং দক্ষিণের ধর্মীয় বিতর্ক— দুই আগুনের মাঝে দাঁড়িয়ে রণবীর সিং কীভাবে নিজের কেরিয়ারের এই কঠিন পরিস্থিতি সামলান, এখন তার দিকেই নজর গোটা বলিপাড়ার।