কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনুরাগীরা। তবে অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেলের কাছে এই ক্ষতি শুধু একজন বর্ষীয়ান সহকর্মীর প্রয়াণ নয়, বরং এক অত্যন্ত কাছের মানুষকে হারানোর যন্ত্রণা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ‘গদর’ খ্যাত এই অভিনেত্রী।
আমিশা জানান, ধর্মেন্দ্র তাঁকে নিজের পরিবারের একজন সদস্যের মতোই দেখতেন। শুধু তাই নয়, কিংবদন্তি এই অভিনেতা প্রায়ই তাঁকে মজার ছলে ‘আমিশা দেওল’ বলে ডাকতেন। অভিনেত্রীর কথায়, “ধর্মেন্দ্রজি যখন আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, তখন মনে হয়েছিল আমি আমার নিজের কাউকে হারালাম। তাঁর সঙ্গে আমার নিয়মিত দেখা না হলেও আমাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত অদৃশ্য টান ছিল। তিনি আমাকে দেওল পরিবারেরই একজন মনে করতেন।”
দেওল পরিবারের সঙ্গে আমিশার সম্পর্ক বহু পুরোনো। সানি দেওলের সঙ্গে ‘গদর: এক প্রেম কথা’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি কেরিয়ারের শিখরে পৌঁছেছিলেন। সানি দেওলের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমিশা জানান, তাঁর প্রথম ছবি ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’-এর সুযোগ যখন আসে, তখন তিনি সানি দেওলের প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু সানি কোনও দ্বিধা ছাড়াই সেই চুক্তি ছিঁড়ে ফেলে আমিশাকে হৃতিক রোশনের বিপরীতে অভিনয় করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সানি দেওলের এই মহানুভবতা আমিশা আজও ভোলেননি।
সাক্ষাৎকারে আমিশা আরও বলেন, “সানি আর আমি একে অপরের কঠিন সময়ে সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি তাঁকে প্রায়ই বলি যে, সানি যদি আমাকে কোনও ছবিতে সংলাপহীন চরিত্র বা একটা গাছের চরিত্রেও অভিনয় করতে বলেন, আমি এক কথায় রাজি হয়ে যাব। কারণ আমি জানি, তিনি আমার জন্য যা করেছেন তা কেউ করে না।”
প্রসঙ্গত, বেশ কিছু বছর বিনোদন জগৎ থেকে দূরে ছিলেন অভিনেত্রী। তারপর 'গদর ২'-এর মাধ্যমে আবার পর্দায় ফিরেছিলেন তিনি। টিনসেল টাউনে খবর, আমিশা প্যাটেল বর্তমানে তাঁর আগামী ছবি ‘হামরাজ ২’ নিয়ে ব্যস্ত।
