শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘আলফা’। এই ছবির প্রথম ঝলক মুক্তির পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছিল জোর চর্চা। আলিয়া ভাট আর শর্বরী ওয়াঘের দুর্ধর্ষ অ্যাকশন সিকোয়েন্স যতটা না নজর কেড়েছে, তার চেয়েও বেশি শোরগোল উঠেছে ছবির কিছু 'পরিচিত' দৃশ্য আর সংলাপ নিয়ে। সিনেপ্রেমীদের একাংশের দাবি, ‘আলফা’-র পরতে পরতে লুকিয়ে আছে হলিউড আর ফ্রেঞ্চ ক্লাসিকের ছায়া।
সিনেমার টিজারটিকে কাটাছেঁড়া করে দর্শকরা ঠিক কী বলেছিলেন, এবং মূল ছবিগুলির সঙ্গে ‘আলফা’-র মিল ঠিক কতটা— ফিরে দেখা যাক।
১. লা ফেম নিকিতা বনাম আলফা: রেস্তরাঁয় প্রথম মিশন
ছবির টিজারের শুরুতেই দেখা গিয়েছিল একটি বিলাসবহুল রেস্তরাঁয় বসে খাবার খাচ্ছেন আলিয়া ভাট এবং ববি দেওল। আলিয়ার ১৮ বছর বয়সের জন্মদিনে ববি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি কার্ড হাতে তুলে দেন, যাতে লেখা একটি রুম নম্বর। ববি বলেন— এবার সময় এসেছে দীর্ঘদিনের ট্রেনিংকে কাজে লাগানোর। অর্থাৎ, জন্মদিনের উৎসব মুহূর্তেই বদলে যায় এক মারাত্মক গুপ্তচরের প্রথম মিশনে।
এই মিল কতটা গভীর? দর্শক সরাসরি আঙুল তুলছেন ১৯৯০ সালের ফ্রেঞ্চ থ্রিলার ক্লাসিক, লুক বেসঁ পরিচালিত ‘লা ফেম নিকিতা’-র দিকে। সেখানেও মূল চরিত্র নিকিতাকে (অ্যান পারিলাড) দীর্ঘ ট্রেইনিংয়ের পর তার মেন্টর বব (চেল্কি কারিও) একটি নামী রেস্তোরাঁয় ডিনারে নিয়ে যান। নিকিতা ভেবেছিলেন এটা হয়তো একটা সাধারণ আউটইং, কিন্তু টেবিলে বসেই বব তার হাতে একটি বন্দুক তুলে দিয়ে বলেন, এই রেস্তরাঁরই কয়েকজনকে খতম করতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সিনেমাপ্রেমীদের অ্যাক্টিভ ফোরামগুলোতে দুই ছবির স্ক্রিনশট পাশাপাশি রেখে তুলনা শুরু হয়ে গিয়েছিল তৎক্ষণাৎ। এক নেটিজেন লিখেছিলেন, “একেবারে নিখুঁত টোকা যাকে বলে! আলফার ওপেনিং সিনটা অন্তত ৯০% কপি করা হয়েছে নিকিতা থেকে।” অন্য এক ইউজার আবার একে হালকা অনুকরণ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে মিলটা যে স্পষ্ট, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
২. আমেরিকান স্নাইপার : নেকড়ে আর ভেড়ার গল্প
'আলফা'-র টিজারে ববি দেওলের ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েসওভারে একটি সংলাপ শোনা যাচ্ছে, যেখানে তিনি আলিয়াকে ট্রেনিং দেওয়ার সময় ‘নেকড়ে এবং ভেড়া’-র তুলনা টানছেন।
এই মিল কতটা গভীর? এককথায় যথেষ্ট। কারণ এই সংলাপটি শোনামাত্রই দর্শকদের মনে পড়ে গেছে ২০১৪ সালের ক্লিন্ট ইস্টউড পরিচালিত অস্কার মনোনীত ওয়ার-ড্রামা ‘আমেরিকান স্নাইপার’-এর কথা। ব্র্যাডলি কুপার অভিনীত সেই ছবিতেও ঠিক একইভাবে সমাজকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল— ভেড়া, নেকড়ে এবং শিকারি কুকুর। নেটপাড়ার একাংশের দাবি, হলিউডের সেই আইকনিক সংলাপকেই একটু এদিক-ওদিক করে হিন্দি সংলাপে রূপ দেওয়া হয়েছে। দর্শক বলছেন, "অ্যাকশন যতই আধুনিক হোক, সংলাপের আইডিয়াটা কিন্তু বেশ পুরনো।”
আজকের ওটিটি আর গ্লোবাল সিনেমার যুগে বাঙালি বা ভারতীয় দর্শককে বোকা বানানো যে সহজ নয়, তা এই চর্চাতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। আলিয়া ভাটের স্পাই ইউনিভার্সে এন্ট্রি নিয়ে দর্শক যতটা আগ্রহী ঠিক ততটাই ক্ষুব্ধ এই ‘ইনস্পিরেশন’ বা অনুকরণ সংস্কৃতি নিয়ে।
তবে কি ‘আলফা’ স্রেফ একটা জোড়াতালি দেওয়া কপি পেস্ট? না কি এই চেনা টোপগুলোকে ব্যবহার করে পরিচালক সম্পূর্ণ নতুন কোনও গল্প বলা হবে? টিজার যতটুকু বিতর্ক উস্কে দিয়েছিল তা যে আজই জানা যাবে, তা বলাই বাহুল্য!















