টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভের পর পাপিয়া অধিকারী কোন কোন বিষয় পদক্ষেপ করবেন, জানতে চেয়েছিল আজকাল ডট ইন৷ পাপিয়া অধিকারী বলেন, অনেক কাজ করার আছে৷ প্রসঙ্গত, তিনি আদিগঙ্গা সংস্কারের কথা বলেন।
"আমার কান্না পায় ভাবলে যে এতগুলো মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন৷ আদিগঙ্গা সংস্কারের জন্য সাড়ে ছ'হাজার কোটি টাকা।পকেটে পুড়েছে, কিচ্ছু করেনি৷ আমি রোজ যেতাম, আমার চোখ দিয়ে দরদর করে জল পড়ত৷ কারণ আমি আধ্যাত্মিক মানুষ৷ মা গঙ্গাকে এইভাবে পঙ্কিল করে রেখে দিয়েছে৷ মা গঙ্গা এখন শুধু কাদা আর গন্ধ, প্রবাহমানতা বন্ধ। আমি মা গঙ্গাকে মানুষ দেবতা এই ভাবে দেখি, অনেক গভীরে গিয়ে তাঁকে ঠিক করতে হবে৷ এটা আমার কাছে বিরাট চ্যালেঞ্জ৷ আদিগঙ্গা ঠিক করতে না পারলে মরে যাব, আমাকে আদিগঙ্গা ঠিক করতেই হবে।"
পাপিয়া অধিকারী আরও বলেন, মমতা ব্যানার্জির বাড়ির জন্য আদিগঙ্গা অবৈধভাবে দখল হয়ে গিয়েছে৷ এগুলো পাপ। মা গঙ্গাকে অবৈধভাবে দখল করা যায়? মা গঙ্গাকে একটা গন্ধ পঙ্কিল নর্দমা করে রাখা যায়?"
তবে শুধু আদিগঙ্গার সংস্কার নয়, পাপিয়া অধিকারী পার্কের সংস্কারও করতে চান৷ বিধায়কের মতে, "পার্কগুলো তালাবন্ধ৷ কিছু পার্কে পার্টি অফিস করা হয়েছিল৷ কিছু পার্ক আবর্জনা ফেলার জায়গা হয়ে উঠেছে৷ মশা মাছি ডেঙ্গি ম্যালেরিয়ার আখড়ায় পরিণত হয়েছে৷ এগুলো সব ঠিক করতে হবে৷ মানুষ আর কত জানলা বন্ধ রাখবে?"
জেতার পরে বিধায়ক গিয়েছিলেন মালঞ্চতে৷ এত মশা, এত নোংরা, ঠিক করতে হবে৷ আমাদের ন'টা ওয়ার্ডে বিভিন্ন সমস্যা৷ আমি সমাধান করতে করতে যাব৷ আমি বুঝতে পেরেছি ৩৬৫ দিনেও কাজ শেষ হবে না৷ কিন্তু আমি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব৷ আমার লক্ষ্য স্থির৷"
পাপিয়া অধিকারী জানান, "আমি প্রতিদিন রাতে পরিকল্পনা করি, কোন সমস্যার সমাধান করব।"
মানুষের শুভেচ্ছায় আপ্লুত পাপিয়া অধিকারী৷ পাপিয়া অধিকারী জানান, "মানুষ বলছেন রাহুমুক্তি ঘটেছে, দশদিকে যেন আলো জ্বলে উঠেছে৷ এই আলো জ্বালিয়ে রাখার দায়িত্ব আমার৷ আমার কাঁধে এখন অনেক দায়িত্ব৷"
এই প্রসঙ্গে পাপিয়া অধিকারী বলেন, আমি ইগো রাখিনি৷ আমি যদি ভাবতাম, আমার অনেক অ্যাওয়ার্ড আছে, আমি অনেক ছবিতে অভিনয় করেছি তাহলে পারতাম না৷ এই যে ক্ষমতা পাওয়া গেল মানুষের জন্য কাজ করার, এটাই চেয়েছিলাম৷ মানুষ ভরসা করেছেন, আমি টালিগঞ্জের ভাল করবই।আমাকে ভালবাসলে আমি প্রাণ দিয়ে দিতে পারি।"















