নয়ের কোঠায় দাঁড়িয়েও যাঁহার প্রাণশক্তি নতুন প্রজন্মের কাছে বিস্ময়, সেই সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসভ্যতার শেষ নেই। সম্প্রতি এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর অসুস্থতা এবং মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভুয়ো খবর রটেছে, তা ঘিরে তোলপাড় হয়েছে নেটপাড়া। কিন্তু সেই খবরের আড়ালে যে এক কঠিন বাস্তব আর মানসিক যন্ত্রণার গল্প লুকিয়ে আছে, তা সামনে আসতেই স্তম্ভিত সচেতন মহল।
৯০ বছর বয়স হলেও আজও সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় যে কতটা ফিট, তা তাঁর জীবনযাত্রাতেই স্পষ্ট। লিফটের বদলে আজও তিনি অনায়াসে সিঁড়ি ভেঙে বাড়িতে যাতায়াত করেন। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে রটনা করা হয়, তিনি শয্যাশায়ী। এই জল্পনায় ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী খোদ 'আজকাল'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বিরক্তি চেপে রাখেননি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “আমি বেঁচে আছি। আর সেই বেঁচে থাকাটাকেই দুর্বিষহ করে তুলেছে ফেসবুক সহ সোশ্যাল মিডিয়ার জঞ্জাল। এরা তো বাঙালি! এমন খবর রটিয়ে কী আনন্দ পায় সবাই? কিছু কাগজ, চ্যানেল থেকে আমাকেই ফোন করে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে—আমি বেঁচে আছি কি না! আমিই ফোন তুলছি, আর আমাকেই এই প্রশ্ন! শেষমেশ বিরক্ত হয়ে ফোন বন্ধ করে রাখতে হয়েছিল।” যদিও কাজের প্রয়োজনে ফের ফোন সচল করতে হয়েছে তাঁকে, কিন্তু তাঁর আবেদন স্পষ্ট—মানুষ যেন তাঁকে ফোন করে শুধু এই প্রশ্নটি না করেন যে, তিনি জীবিত কি না। পাশাপাশি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার এই তথাকথিত 'উন্নতি' সম্পর্কে তিনি বিন্দুমাত্র আগ্রহী নন। তাঁর কথায়, “আমি ফেসবুক দেখি না কখনও। ওখানে কী হয়, জানি না। কারা কী সব রটায়, সেটাও বুঝি না। এই বয়সে এসে আর বুঝতেও চাই না।”
সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের এই যন্ত্রণার কথা জানার পর এবার সরব হয়েছেন অভিনেত্রী অপরাজিতা ঘোষ দাস। 'আজকাল'-এর সেই প্রতিবেদনটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অপরাজিতা লেখেন, “সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় একদম ঠিক বলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া একটা জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। মানুষ মনে হয় মরার খবর আগে জানতে চায়।”
শিল্পীর জীবনকে সম্মান জানানোর বদলে ইন্টারনেটের 'ক্লিকবেট' বা ভিউ পাওয়ার নেশায় যেভাবে প্রতিনিয়ত তারকাদের নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নেটিজেনদের একাংশের মতে, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন জীবন্ত কিংবদন্তিকে এভাবে মানসিক হেনস্থা করা কেবল অসভ্যতা নয়, রীতিমতো অপরাধ।
















