ফের খবরে বিতর্কিত গায়ক কৈলাশ খের। দিল্লির এক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে শিল্পীর মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে এক নজিরবিহীন অবস্থান নিলেন সঙ্গীতশিল্পী কৈলাশ খের। শিল্পীকে কি কেবল ‘বিনোদনকারী’ হিসেবে দেখা উচিত? এই প্রশ্নেরই কড়া জবাব দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে তিনি।
পাবলিক ইভেন্টে বা পুরস্কারের মঞ্চে সঞ্চালকদের পক্ষ থেকে শিল্পীদের গাইতে অনুরোধ করা খুব সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এই ‘ফরমায়েশি গান’-এর আবদারই যে একজন শিল্পীর মর্যাদাকে কতটা খর্ব করতে পারে, তা বুঝিয়ে দিলেন প্রখ্যাত গায়ক কৈলাশ খের। দিল্লির তাজ প্যালেসে আয়োজিত ‘সিক্স সিগমা লিডারশিপ সামিট ইন হেলথকেয়ার’-এর মঞ্চে গাইতে অস্বীকার করে তিনি যেন সঙ্গীত জগতের এক নতুন দর্শনের জন্ম দিলেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ এপ্রিল। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হঠাৎই কৈলাশ খেরকে অনুরোধ করেন কয়েক লাইন গেয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করতে। এই অনুরোধ শুনেই দৃশ্যত বিরক্ত হয়ে ওঠেন শিল্পী। তিনি মাইক হাতে নিয়েই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি এটাই বদলাতে চাই। সঙ্গীতকে বা গায়ককে এভাবে ছোট করা উচিত নয় যে, হুট করে বললেন ‘দুটো লাইন গেয়ে দিন, একটু পরিবেশটা জমিয়ে দিন’। এটা খুব ভুল। দয়া করে এই অনুরোধগুলো করা বন্ধ করুন।”
নিজের বক্তব্যকে আরও জোরালো করতে কৈলাশ খের দু’টি শক্তিশালী উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, “আপনারা কি কখনো শচীন তেন্ডুলকরকে বলবেন যে, হুট করে মাঠে নেমে একটা ছক্কা মেরে দেখান? এই পৃথিবীতে কেউ এমনটা করে না। বা কোনও সেনা জওয়ানকে কি বলবেন, অস্ত্র তুলে একটা বন্দুকের গুলি চালিয়ে দেখান? দয়া করে এটা করবেন না। শিল্পীকে ‘জোকার’ করবেন না।”
একজন শিল্পী মানেই যে কেবল বিনোদনের উপকরণ নয়, সেই বার্তাও দিয়েছেন কৈলাশ। তাঁর কথায়, “একজন শিল্পীকে কেবল বিনোদনকারী হিসেবে দেখবেন না। প্রকৃত শিল্পী একজন ‘সাধক’ হন, তাঁরা নিজেদের মনের মতো সুরের আরাধনা করেন।”
কৈলাশ খেরের এই প্রতিক্রিয়া এখন নেটপাড়ায় শোরগোল ফেলেছে। অনেকেই তাঁর এই সাহসী অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। নেটিজেনদের একাংশের মতে, শিল্পীদের সম্মান জানানোর যে সংস্কৃতি আমাদের মধ্যে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, কৈলাশ খেরের এই বার্তাটি যেন সেই হারানো বোধকে আবার জাগিয়ে তুলল।















