নিজস্ব সংবাদদাতা: কারও কাছে তিনি ভরসা, কারও তিনি ম্যাডাম, আবার কারও কাছে তিনি আদরের বৌমণি। ৫২ বছরের জীবনে এভাবেই সকলকে বেঁধে বেঁধে রেখেছিলেন। আগলে রেখেছিলেন তাঁর প্রতিষ্ঠানকে। তিনি "এমআরসি": মৌ রায়চৌধুরী। ৭ মে, ২০২৪, তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ শিল্পীমহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করেছেন অনেকেই। শিল্পী ইমন চক্রবর্তী ভেসেছেন স্মৃতির সাগরে। আদরের বৌমণির চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। শোকে কাতর শিল্পী জয় সরকার ও লোপামুদ্রা মিত্রও। একই অবস্থা ওপার বাংলার শিল্পী স্বপ্নিল সজীব -এর। আজকাল ডট ইন এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে জানালেন, সকাল সকাল এমন একটা খবরে কেমন অসাড় হয়ে যাচ্ছি। 
"আমি ওনার ছোট বোনের মতই ছিলাম বলে আমার ধারণা"- জানালেন ইমন। শিল্পীর কথায়, ""আমার সল্টলেকে অনুষ্ঠান থাকলে বৌমণির বাড়িতে চলে আসতাম। তখন আমি লিলুয়া থেকে যাতায়াত করতাম। বৌমনির বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করে, বৌমণির শাড়ি পরেই অনুষ্ঠানে যেতাম। এমনকি ওর মেকআপও ব্যবহার করেছি। একসঙ্গে অনেক বিদেশ ট্রিপে গিয়েছি। সত্যমদাকে চোখেই দেখি, সেই থেকেই বৌমণি বলে ডাকা শুরু। আমার দেখাদেখি বন্ধুরাও ওই নাম ডাকতে শুরু করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে এই খবরটা আমাকে অসাড় করে দিয়েছে, কিছু করতে পারছি না। অবিশ্বাস্য! আমার বসন্ত উৎসবে প্রত্যেকটা বছর ভীষণ ভাবে পাশে থেকেছে বৌমণি, আমার বিয়েতেও এসেছিলেন। গত পয়লা বৈশাখেও কথা হয়েছে। প্ল্যান হচ্ছিল যে আমার বাড়িতে আড্ডা হবে। কী যে হয়ে গেল... মেনে নিতে পারছি না। ""
শিল্পী জয় সরকারের কথায়, ""আমি আর লোপা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। খেলা দেখতে যাওয়ার আগে ওর মেসেজ আসতো, মোহনবাগানকে জিতিয়ে ফিরো। জানিয়েছিল, হাসপাতালে আছে। রবিবার দিন খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। মেসেজের উত্তর পায়নি। চিন্তা হচ্ছিল। আর আজ এই খবর। এত প্রাণোচ্ছ্বল একটা মানুষ, সবার সঙ্গে হেসে কথা বলা- আমি ভাবতেই পারছি না, এরকম একটা মানুষকে ছাড়া বাকি জীবনটা কাটাতে হবে! কোনও স্বার্থের সম্পর্ক ছিল না জানো। ""  
সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলাচিঠি লিখেছেন সঙ্গীতশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র। তাঁর চিঠিতেও বিষাদের সুর- ""মৌ, হাসিমুখে চলে গেলে, কিন্তু , তোমার চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছি না যে। প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতাম আমরা। তুমি জানতে, বুঝতে, আমি কি ভালোবাসি, কি বাসি না। কতদিন থেকে যাব যাব করেও যাওয়া হয়নি তোমাদের বাড়ি। আমার আর জয়ের মতো সকলের মনেরই আজ এই অবস্থা, যারা তোমাকে একটু কাছ থেকে দেখেছে, বুঝেছে। তোমার মতো মনের জোর আর পজিটিভ শক্তির মেয়ে আমি খুব কম দেখেছি। আমার মা ছিলেন, আর তুমি। সকলকে আগলে রাখার আরেকজন মানুষ। তুমি মনের মাঝে থাকবে আমাদের। আমাদের সহজ পরব, সে ও একজন কাছের মানুষকে হারালো। দিয়েছো, বিনিময়ে চাওনি কিছু , কোনওদিন। কে পারে ? এভাবে ?""
ঢাকা থেকে সংগীতশিল্পী স্বপ্নীল বললেন, "বৌদি আমাদের প্রাণের একটি জায়গায় ছিলেন, আছেন, থাকবেন। সকাল থেকেই মনটা ভারাক্রান্ত। কত কিছু মনে পড়ছে। সেই ২০১৫ সাল থেকে কতবার দেখা হয়েছে। ঢাকাতেও এসেছিলেন, জামদানি ভালবাসতেন। ভাইফোঁটা হোক বা রাখি, কলকাতা থেকে একজন মানুষই আমাকে তত্ত্ব পাঠাতেন, সেটা হল মৌ বৌদি। ঋষি ও সত্যম দা"র জন্য প্রার্থনা করছি, ঈশ্বর ওদের শক্তি দিন। আর মৌ বৌদি চলে গিয়েছেন, কিন্তু উনি আমাদের ভালবাসায় শ্রদ্ধায় আজীবন থাকবেন।"