‘গুপ্তধনের সন্ধানে’, ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’, ‘কর্ণসুবর্ণের গুপ্তধন’-এর পর আসছে গুপ্তধন ফ্র্যাঞ্চাইজির চতুর্থ ছবি। নাম, ‘সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন’। সম্প্রতি, মুক্তি পেয়েছে সেই ছবির ঝলক৷ এই গুপ্তধন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযানের সৌজন্যে দর্শকের কাছের মানুষ হয়ে উঠেছে সোনাদা, আবির এবং ঝিনুক। ফ্র্যাঞ্চাইজির বাকি ছবিগুলির মতো ‘সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন’-এও মূল চরিত্রে যথারীতি অভিনয় করছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন চক্রবর্তী এবং ইশা সাহা। পরিচালনায় সেই ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়। রহস্য, হাস্যরস, সাসপেন্সের মিশেলে বোনা হয়েছে এই ছবির গল্প। এবারের অভিযানের পটভূমি সুন্দরবন৷ নির্মাতাদের দাবি, রহস্য, ইতিহাস আর নির্মল হাস্যরসের মোড়কে সাজানো এই ছবির ক্যানভাস এবার অনেক বেশি বিস্তৃত।
ইতিমধ্যেই ছবির টিমের মুখোমুখি হয়েছিল আজকাল ডট ইন। সেই সাক্ষাৎকারে প্রসঙ্গ ওঠে আবির চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ব্যোমকেশ এবং সোনাদা কোথায় আলাদা? তিনি কীভাবে এই দুই চরিত্রকে বিশ্লেষণ করেন? কারণ জনতামহলে এই দুই চরিত্রেই ব্যাপকভাবে সমাদৃত আবির। অভিনেতার কথায়, “আমার কেরিয়ারের শুরুর দিকেই ব্যোমকেশ চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেটা আমার সৌভাগ্য। আমি নিজে ছোটবেলা থেকে ব্যোমকেশের ভক্ত, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের লেখার ভক্ত। আর ব্যোমকেশ তো শুধুই একটি চরিত্র নয়, ব্যোমকেশের গল্পগুলো তো শুধুই সত্যান্বেষণের গল্প নয়, এটা বাংলার সংস্কৃতির অঙ্গ। এরকম একটি বটবৃক্ষের মতো চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলাম...শুধু তাই নয়, দর্শকের কাছে আমার প্রথমদিকের পরিচিতির সিংহভাগ এই চরিত্রের মাধ্যমেই। তাই সবসময় এই চরিত্রটি আমার কেরিয়ারে বিশেষ হয়ে থাকবে।
আর সোনাদা চরিত্রটাই লেখা হয়েছিল বড়পর্দার জন্য। উপন্যাসের কোনও গোয়েন্দা চরিত্র না হওয়ার ফলে দর্শকের মাথায় সোনাদাকে নিয়ে আগাম কোনও ধারণা বা ছবি আঁকা ছিল না। ২০১৮-তে এই সিরিজের প্রথম ছবি মুক্তি পাওয়ার পর দর্শক যেভাবে সোনাদা-কে গ্রহণ করেছিল, তাতে আমি খুশি হয়েছিলাম খুব। বিশেষ করে, ছোটরা যেভাবে আমাকে দেখেই 'সোনাদা' বলে ডাকা শুরু করেছিল, তাতে আমি আপ্লুত। এবার দুই চরিত্রের তফাতটা বলি। ব্যোমকেশের ছবিতে ব্যোমকেশ-ই প্রধান, ওদিকে এই গুপ্তধন সিরিজের ছবিগুলোতে গুপ্তধন বিষয়টাই কিন্তু প্রধান। ব্যোমকেশের ছবিগুলোর প্রতিটি নামে কিন্তু রয়েছে ব্যোমকেশ। যদি উপন্যাসের নামেও ব্যোমকেশ না থাকে, তবুও কিন্তু যোগ করা হয়েছিল ছবির নামের ক্ষেত্রে। সোনাদা'র ছবিগুলোর নামে কিন্তু কোথাও সেই চরিত্রটির নাম নেই। রয়েছে গুপ্তধনের নাম। সোনাদা কিন্তু গোয়েন্দা নন, অ্যাডভেঞ্চারার।
খানিক থামলেন আবির। তারপর ফের বললেন, “এই গুপ্তধন সিরিজের প্রধান বিষয়টা কিন্তু গল্প বলা। দর্শককে গল্প শোনানো ঠিক যেভাবে আমরা ছোটবেলার দাদু-ঠাম্মার কাছে গল্প শুনতাম। আজকাল তো সেই গল্প বলা বিষয়টা প্রায় হারিয়েই গিয়েছে, গুপ্তধন ফ্র্যাঞ্চাইজি ছবিগুলোতে কিন্তু সেই বিষয়টির উপর জোর দেওয়া হয়। ছোটবেলায় সেইসব গল্প শোনার মধ্যে কিন্তু শুধুই গল্প শোনানো থাকত না, অনেককিছুই তার মধ্যে পাস-অন করা হত। সেটাই প্রধান আকর্ষণ। এইসব ছবির গল্পগুলোও তাই। আর সত্যি কথা বলতে কী, সোনাদা চরিত্রটি দর্শকের কাছে অনেক বেশি আপন, চেনা। যার সঙ্গে আড্ডা মারা যায়, পিছনে লাগা যায় আবার জেক দেখে মনে হয় আমারও যদি এরকম একজন সোনাদা থাকত। আমার নিজেরই মনে হয়! তাই ব্যোমকেশ ও সোনাদা-র মতো এই দু'টি চরিত্র আমার কেরিয়াগ্রাফে আছে, আমি কৃতজ্ঞ।”
প্রসঙ্গত, সোনাদা কিন্তু কখনওই গোয়েন্দা নয়। সে গুপ্তধনও খুঁজে বেড়ায় না। সে একজন অধ্যাপক। কোথাও বেড়াতে গিয়ে বা অন্য কোনও সূত্রে অ্যাডভেঞ্চারে জড়িয়ে পড়ে। সেই অভিযানে শামিল হয় আবীর-ঝিনুকও। এবারও তার অন্যথা হয়নি। তাই তো ইশা বলেন, “অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে সোনাদা, আবির এবং ঝিনুক যায় না। বরং অ্যাডভেঞ্চার ওঁদের পিছন পিছন আসে।”















