কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হতে চলেছে বাংলা থিয়েটারের দীর্ঘদিনের কর্মী, গবেষক, পরিচালক অভি চক্রবর্তীকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে অশোকনগর নাট্যমুখ দলের পরিচালক ও কর্ণধারকে এবারের বাংলা থিয়েটার সেন্টিনারি স্টার থিয়েটার মেডেল তুলে দেওয়া হবে বাংলা থিয়েটারে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের জন্য। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের শতবর্ষ প্রেক্ষাগৃহে ২৩ মার্চ একটি অনুষ্ঠানে অভির হাতে এই পুরস্কার তুলে দেবেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কলকাতা থেকে অনেকটা দূরে বসেই দীর্ঘদিন ধরে থিয়েটার চর্চা করে চলেছেন অভি। শুধু স্টেজ থিয়েটার নয়, পাশাপাশি বিভিন্ন স্পেস ও স্ট্রিট থিয়েটারের চর্চাও তাঁর নেতৃত্বে করে চলেছে অশোকনগর নাট্যমুখ। পাশাপাশি থিয়েটার গবেষণামূলক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি করেন। থিয়েটার দলের নিয়মিত প্রকাশনার কাজেও তিনি এবং তাঁর দলের সদস্যরা সমান দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অংশ নেন। সম্প্রতি তাঁর দল পূর্ণ করেছে ২৫ বছর।
পাশাপাশি, স্থানীয় বিধায়কের সাহায্য ও দলের অক্লান্ত পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে অশোকনগর নাট্যমুখ গড়ে তুলেছে নিজস্ব থিয়েটার স্পেস অমল অলো। সেখানে নিয়মিত থিয়েটারের অভিনয় হচ্ছে, থিয়েটার চর্চা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই কঠিন সময়ে দল কাজ করছে স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে অল্পবয়সি ছেলে মেয়েদের সঙ্গে। বাংলা থিয়েটারের আঙিনায় তাঁদের এনে দাঁড় করিয়ে অভি আসলে তৈরি করে যাচ্ছেন ভবিষ্যতের এক গতিপথও।
অভির থিয়েটারের যাত্রা বিচিত্র। নভেন্দু সেন থেকে ব্রাত্য বসু হয়ে অংশুমান কর বা এই প্রজন্মের শরণ্য দে, বিভিন্ন দিকের মানুষের লেখা নাটক নিয়ে কাজ করেছেন এবং করে চলেছেন অভি। বর্তমানে অংশুমান করের লেখা 'ভেমুলার রামায়ণ' নাটকটি রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিনীত হয়েছে। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের চার ট্র্যাজিক হিরো-কে নিয়ে লেখা একটি পরাবাস্তব নিরীক্ষামূলক কাজও তিনি বাংলা মঞ্চকে উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি মঞ্চে ফিরিয়ে এনেছেন একসময়ের কালজয়ী নাটক মনোজ মিত্রের লেখা 'সাজানো বাগান'-কেও। পাশাপাশি একই সঙ্গে তিনি কাজ করছেন বাদল সরকারের লেখা একটি নাটক নিয়েও। সব মিলিয়ে অভির নাট্য-নিরীক্ষার যাত্রাপথ গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
এই পুরস্কার পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, "থিয়েটার করতে গিয়ে, সিরিয়াস থিয়েটারের মধ্যে দিয়ে যেতে গিয়ে বিভিন্ন পুরস্কার শিরোপা জুটেছে। আমি ভাগ্যবান মনে করি নিজেকে। যে শ্রম ও ক্রমাগত লেগে থাকার আশীর্বাদ স্বরূপ কিছু মূল্যবান সম্মান পেয়েছি আমি।"
তিনি আরও বলেন, "কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী, জনপ্রিয় এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন একটা সম্মান সদর্থক অর্থেই আমাকে থিয়েটারের প্রতি আরও নীরিক্ষাপ্রবণ, আরও যত্নশীল এবং আরো একটু বিনয়ী হতে অনুপ্রাণিত করল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমার নমস্কার। থিয়েটারে আমার বন্ধু দর্শক সমস্ত সহযোগীদের ভালবাসা এবং অভিনন্দন।"
