সংবাদ সংস্থা মুম্বই: ২০ জুন মুক্তি পাচ্ছে ‘সিতারে জমিন পার’। ছবির প্রচারে এসে একের পর এক বিস্ফোরক ঘোষণা করলেন আমির খান। কারও ধারণাতেও ছিল না যে এই পর্দার ‘মিঃ পারফেকশনিস্ট’ একদিকে যেমন প্রস্তুত হচ্ছেন সুপারহিরো অবতারে হাজির হতে, অন্যদিকে আবার আজও বুকের ভেতর আগুনের মতো জ্বলছে তাঁর ‘মহাভারত’ স্বপ্ন।
জল্পনা চলছিল দীর্ঘদিন। এবার আমির নিজেই সিলমোহর দিলেন খবরটিতে। তামিল ব্লকবাস্টার ‘বিক্রম’, ‘লিও’, ‘মাস্টার’ ও ‘কাইথি’-র পরিচালক লোকেশ কানাগরাজের সঙ্গে জুটি বাঁধতে চলেছেন তিনি—একটি সুপারহিরো অ্যাকশন ফিল্মে! “লোকেশ আর আমি একসঙ্গে কাজ করছি। এটা বড় মাপের অ্যাকশনধর্মী সুপারহিরো ছবি হবে। শুটিং শুরু হবে আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে। এখনই বেশি কিছু বলা যাবে না—এটা দু'বছর পরের গল্প,” মন্তব্য আমিরের। স্বভাবতই আমিরের এই ঘোষণায় সমাজমাধ্যম কার্যত উত্তাল।
“সিনেমা নয়, এক মহাযজ্ঞ”—মহাভারতের কথা বলতে গিয়ে কণ্ঠ কাঁপল আমিরের। এ যেন শুধুই আর এক বড় বাজেটের ছবি নয়। “মহাভারত বানানো মানে একটা সিনেমা বানানো নয়... এটা এক যজ্ঞের মতো,” বললেন আমির খান। তাঁর স্বপ্ন আজ থেকে নয়, ২৫ বছর ধরে তিনি এই ভাবনাটাকে বয়ে নিয়ে চলেছেন। তাঁর কথায়, “এই ছবিটা তৈরি করতে গেলে শুধু পয়সা নয়, লাগে অধ্যবসায়, মানসিক প্রস্তুতি, আত্মিক উপলব্ধি। আমি এখনও সেই জায়গায় পৌঁছইনি। তবে চেষ্টা চলছে।” কাস্টিং নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই স্পষ্ট উত্তর, “এই মুহূর্তে কোনও নাম বললে ভুল হবে। কারণ এখনও চিত্রনাট্যের কোনও পোক্ত কাঠামো তৈরি হয়নি।”
অন্যদিকে, আমির এও জানিয়েছেন, ‘পিকে ২’ নয়, আসছে দাদাসাহেব ফালকের বায়োপিক। অনেকেই ভেবেছিলেন 'পিকে'-র সিক্যুয়েল হয়তো তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমির জানিয়ে দিলেন, “না, ‘পিকে ২’ নিয়ে কোনও প্ল্যান নেই। তবে রাজু (হিরানি) আর আমি মিলে দাদাসাহেব ফালকে নিয়ে একটি ছবি করছি।” অর্থাৎ, ভারতীয় সিনেমার জনককে নিয়ে আসছে এক ঐতিহাসিক প্রোজেক্ট, যা আবারও এক করিশ্মাময় পারফরম্যান্সের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
‘তারে জমিন পার’ থেকে ‘সিতারে জমিন পার’—এক নতুন আকাশে পা রাখতে চলেছেন আমির। আর. এস. প্রসন্ন পরিচালিত ‘সীতারে জ়মিন পার’ মুক্তি পাবে ২০ জুন। এটি ২০০৭ সালের ব্লকবাস্টার ‘তারে জ়মিন পার’-এর স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়েল। আবারও এক আবেগঘন গল্পে দেখা যাবে আমিরকে। তবে এবার শিক্ষার গল্পের সঙ্গে থাকবে খেলাধুলোর স্পর্শ।
