আমির খান পর্দায় যতটা নিখুঁত, বাস্তব জীবনেও তিনি ততটাই আবেগপ্রবণ। কিন্তু বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’-এর জীবনেও এক অন্ধকার সময় এসেছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবনের অজানা অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন অভিনেতা। আমির জানিয়েছেন, প্রথম স্ত্রী রিনা দত্তর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে নিজেকে সামলাতে মদের নেশায় ডুবে গিয়েছিলেন।
আমির ও রিনার বিয়ে হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। দীর্ঘ ১৬ বছর সংসার করার পর ২০০২ সালে তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ হয়। আমির জানান, রিনা যখন ঘর ছেড়ে চলে যান, তখন তিনি এক গভীর শূন্যতা অনুভব করেছিলেন। সেই একাকীত্ব এবং মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে নিয়মিত মদ্যপান শুরু করেন।
বিচ্ছেদের পরবর্তী দিনগুলো আমিরের জন্য ছিল খুবই যন্ত্রণাদায়ক। অভিনেতা স্বীকার করেছেন যে, সেই সময় তিনি প্রায় প্রতিদিনই প্রচুর পরিমাণে মদ খেতেন। তিনি মনে করেছিলেন, মদ্যপান করলে হয়তো মনের কষ্ট কিছুটা কমবে। এভাবেই ধীরে ধীরে নেশার জালে জড়িয়ে পড়ছিলেন নায়ক। তাঁর এই অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে তাঁর মা এবং সন্তানরা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন।
যদিও নিজের ভুল বুঝতে বেশি সময় লাগেনি আমিরের। তিনি উপলব্ধি করেন যে, কেবল নেশার মাধ্যমে দুঃখ ভোলার চেষ্টা করা আসলে নিজেকে এবং নিজের কেরিয়ারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া। নিজের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং পরিবারের কথা মাথায় রেখে তিনি এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। আমির বলেন, "আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে নেই। তাই আমি নিজেকে বদলে ফেলার প্রতিজ্ঞা করি।" সেই কঠোর মানসিক জোর থেকেই তিনি মদ্যপান পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।
সাধারণত ডিভোর্সের পর স্বামী-স্ত্রীর মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু আমির ও রিনা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। আমির জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কোনও তিক্ততা নেই। রিনা আজও তাঁর পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সন্তানদের বড় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁরা দুজনেই সমান দায়িত্ব পালন করেন। এমনকী আমিরের দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাওয়ের সঙ্গেও রিনার চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।
আমির খানের এই স্বীকারোক্তি যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের জীবনে কঠিন সময় আসবেই। কিন্তু সেই সময় ভুল পথে না গিয়ে নিজেকে সামলে নেওয়াটাই আসল কথা। জীবনের সবচেয়ে বড় পরাজয় থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, আমির খানের এই অভিজ্ঞতা তারই এক বড় উদাহরণ। আজ তিনি মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এবং নিজের কাজ ও সন্তানদের নিয়ে সুখে রয়েছেন।















