আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ভোটে জয়ের পর ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যেই অ্যাকশন মোডে দেখা গেল সাঁইথিয়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহাকে। শুক্রবার সকালে আচমকাই তিনি হাজির হন সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। বিধায়কের এই সারপ্রাইজ ভিজিট ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন বিধায়কের সামনে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাঁইথিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে এই হাসপাতালই একমাত্র ভরসা হলেও সামান্য জটিলতা দেখলেই রোগীদের সিউড়ি বা বোলপুরে রেফার করে দেওয়া হয়। পরিকাঠামোর অভাব, পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকা, জরুরি পরিষেবার সীমাবদ্ধতা এবং কর্মীদের একাংশের দুর্ব্যবহার নিয়ে বহুদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল এলাকায়। শুক্রবার বিধায়ক হাসপাতালে পৌঁছতেই রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সেই সমস্ত অভিযোগ সামনে আনেন।

 কৃষ্ণকান্ত সাহা হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, প্রসূতি বিভাগ সহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। বেডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। কোথাও ওষুধের সমস্যা হচ্ছে কি না, চিকিৎসকরা নিয়মিত দেখছেন কি না কিংবা হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে কোনও অসুবিধা রয়েছে কি না–এসব বিষয়েও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন বিধায়ক। 

পরিদর্শনের পর তিনি একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। হাসপাতালের দেওয়ালে নিজের দুটি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর টাঙিয়ে দেন তিনি। বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় জানান, চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হলে বা কোনও স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁকে ফোন করতে পারবেন। তিনি বলেন, মানুষের ফোনের জন্য তিনি ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করবেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, অভিযোগ পাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যেই তাঁর প্রতিনিধি হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। 

এরপর হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কৃষ্ণকান্ত সাহা। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অযথা রোগী রেফার করা বা চিকিৎসায় গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, অতীতে কী হয়েছে তা মানুষ জানেন বলেই তাঁকে নির্বাচিত করেছেন। সেই আস্থার মর্যাদা রাখাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। আগামী ১৩ তারিখ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। সেখানে হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি এবং পরিষেবা আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। 

বিধায়কের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের আশা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থার ছবি এবার বদলাতে পারে এবং সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।