আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত পাঁচ বছরে নিজের বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের ১০০ শতাংশ টাকা খরচ করে মুর্শিদাবাদ জেলার মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে ফের একবার নিজের জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক তথা এবছরও ওই কেন্দ্রের গেরুয়া প্রার্থী গৌরী শঙ্কর ঘোষ। গত পাঁচ বছরে কাজের নিরিখে মুর্শিদাবাদ জেলার শাসক দলের একাধিক বিধায়ককে পেছনে ফেলে দিয়েছেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।
কেবলমাত্র বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচ করে তিনি নিজের কেন্দ্রের উন্নয়ন করেছেন তাই নয়, বিধায়ক হিসেবে তিনি যে ভাতা পান সেই টাকাও গত পাঁচ বছরে এলাকার উন্নয়নের পেছনে খরচ করে দিয়েছেন বলে গৌরী শঙ্করবাবুর দাবি।
১৯৫১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র বেশিরভাগ সময় কংগ্রেস বা ফরওয়ার্ড ব্লকের দখলে ছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে গেরুয়া দলের ভোট প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী গৌর শঙ্কর ঘোষ ৯৫ হাজার ৯৬৭ ভোট পান এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের শাওনি সিংহ রায়কে প্রায় ২৫০০ ভোটে পরাজিত করেছিলেন।
এবছরও মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী গৌরী শঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রতীকে শাওনি সিংহ রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর পাশাপাশি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মনীষা পাঠক পাণ্ডে এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আব্দুল মান্নান। কংগ্রেসের প্রার্থী সিদ্দিকী আলী।
গৌরী শঙ্করবাবু বলেন," গত নির্বাচনে প্রায় আড়াই হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলাম এবারের ভোটে জেতার ব্যবধান বেড়ে ৩০ হাজার হবে।" তাঁর অভিযোগ, "দল বদল করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেও এই কেন্দ্রের প্রার্থী শাওনি সিংহ রায় মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে একটিও স্কুল, কলেজ বা হাসপাতাল তৈরি করেননি। বরং এই কেন্দ্রের ২০-৩০ হাজার মানুষ এখন পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে কাজ করছেন।"
তিনি বলেন," সাধারণ মানুষ বুঝেছে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে শিল্প হবে। ছাত্রছাত্রীরা আধুনিক শিক্ষা পাবে। এখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও আর শাসক দলকে চাইছে না। রাষ্ট্রবাদী মুসলমানরা দেশের উন্নয়নের জন্য বিজেপির হাত ধরতে প্রস্তুত।"
বিজেপি প্রার্থী আরও বলেন, "দেশের প্রধানমন্ত্রীর মূল স্লোগান 'সাবকা সাথ ,সাবকা বিকাশ'। বিজেপি বিধায়ক হিসেবে আমিও মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত ধর্মের এবং বর্ণের মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাসী করি।"
বিজেপি বিধায়ক হিসেবে নিজের বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলে গত ৫ বছরে মোট ৩.২০ কোটি টাকা পেয়েছেন গৌরী শঙ্করবাবু। বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল এবং বিধায়ক হিসেবে পাঁচ বছরে প্রাপ্ত ভাতা থেকে নিজের এলাকায় কী কী উন্নয়নের কাজ করেছেন তার বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত একটি পুস্তিকা বিধানসভা এলাকার ২৫ হাজার মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিতে শুরু করেছেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা।
গৌরী শঙ্করবাবু বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে নশিপুর রেল ব্রিজের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে একটি বিকল্প রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু আমি বিধায়ক হওয়ার পর নসিপুর এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে রেলের জন্য জমির ব্যবস্থা করেছি। নসিপুর রেল ব্রিজ চালু হয়ে যাওয়ায় একাধিক নতুন ট্রেন পেয়েছেন জেলাবাসী। কলকাতা থেকে সরাসরি সাইরাং চলে যাওয়া যাচ্ছে একটি ট্রেনে। ইতিমধ্যেই নসিপুর হল্ট স্টেশনের কাজও শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই জেলাবাসী আরও একটি নতুন স্টেশনও পেয়ে যাবেন।"
গত পাঁচ বছরে বিধায়ক হিসেবে নিজের কাজের ফিরিস্তি দিতে গিয়ে গৌরী শঙ্করবাবু বলেন, "ঐতিহাসিক শহর মুর্শিদাবাদে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় প্রচুর ঢালাই রাস্তার কাজ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাসিন্দাদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল, কমিউনিটি টয়লেট, সৌর বিদ্যুৎ, সাইকেল গ্যারেজ, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল এবং আমার বিধায়ক ভাতার টাকায়।"
তিনি বলেন ,"এলাকার উন্নয়ন করতে গিয়ে আমাকে কোনও দুর্নীতির আশ্রয় নিতে হয়নি। আমার পরিবারের বড় ডেয়ারির ব্যবসা রয়েছে। সেখান থেকে আমাদের যা আয় হয় তাতে আমাদের যৌথ পরিবার সচ্ছলভাবে চলে যায়।"
তৃণমূল প্রার্থী শাওনি সিংহ রায়কে আক্রমণ করে গৌরী শঙ্করবাবু বলেন," উনি অন্য দলের প্রতীকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তারপরে দলবদল করেছিলেন। কিন্তু এলাকার উন্নয়নের জন্য কোনও কাজ করেননি বরং জিয়াগঞ্জ এলাকার বিখ্যাত লন্ডন মিশনারি হাসপাতাল তাঁর জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে।"
এসআইআর বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে গৌরী শঙ্করবাবু বলেন,"তালিকায় ছোটখাটো যে ভুল ভ্রান্তি রয়েছে তা কিছু বিএলও-দের জন্যই হয়েছে। এদেশের বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ যাওয়া বা বিদেশে পাঠানোর কোনও প্রশ্নই নেই। প্রতিবেশী দেশে ধর্মীয় কারণে উৎপীড়নের শিকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ শরণার্থী হিসেবে ভারতের নাগরিকত্ব পেতে পারেন।"
বিজেপি প্রার্থী আরও দাবি করেন ,"শাসক দলের তরফ থেকে এসআইআর নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে ভুল প্রচার চালানো হচ্ছে। আমার কেন্দ্রেই প্রায় ৪৩০০ হিন্দু ভোটারের নাম এসআইআর পর্বে বাদ গিয়েছে।"
তিনি বলেন," আমার লক্ষ্য মুর্শিদাবাদ 'পরিযায়ী শ্রমিকের জেলা' এই তকমা ঘুচিয়ে এই জেলার সঙ্গে কয়েক'শ বছর আগে শশাঙ্কের নামের যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় জড়িয়ে ছিল তা আরও একবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এর পাশাপাশি জেলার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল,স্বাস্থ্য, পর্যটনকে আরও উন্নত করার জন্য আমি লড়াই করব।"















