আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ কুর্সি পেতে চলেছেন দিলীপ ঘোষ। ব্রিগেডে শপথগ্রহণ করেছেন তিনি। যদিও তিনি কোন দপ্তর পেতে চলেছেন, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতেই, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি। 

 

গতকালই শপথ নিয়েছেন খড়গপুর সদরের বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। এবার কী কী কাজ করবেন? তিনি জানালেন, "চার্জ যতক্ষণ না আসছে, কাজ শুরু করতে পারব না। শুধু ঢোকা হয়েছে। এখন দপ্তর ভাগ হবে৷ আরও অনেক মন্ত্রী শপথ নেবেন৷ সময় লাগবে দু-চারদিন।" 

 

দায়িত্বে আসার পর প্রথম কাজ কী হবে? তিনি জানালেন, "প্রথম, দ্বিতীয় বলে কিছু নেই। সব কাজই করতে হবে এক সঙ্গে। বিরোধী দলগুলিকে সম্মান দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি? তাদের ঘরবাড়ি ভেঙেছেন। আজ ঠেলায় পড়ছেন, তাই গাছে উঠতে হচ্ছে। শুনুন মমতা ব্যানার্জি, এই স্যান্ডউইচ রাজনীতি, আর এটা চলবে না। চুপ করে বসুন না। দেখুন কী হচ্ছে? কেউ আপনার পাশে নেই, আপনার পার্টির লোকেরাও নেই। পার্টির লোকেরা ঘরছাড়া। তাঁদের খোঁজ খবর নিন। বিরোধী দলনেতা হলেন শোভনদেব৷ মমতা ব্যানার্জিকে ছাড়তে হল। উপায় নেই সব ছাড়তে হয়েছে মমতাকে। খবরে থাকতে চান উনি।" 

 

আরএসএস-এর প্রচারক। সেখান থেকে রাজনীতির ময়দানে মেদিনীপুরের ছেলে দিলীপ ঘোষ। ক্রমেই হয়ে উঠেছেন পদ্ম শিবিরের দাপুটে নেতা। সামলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দায়িত্ব। খড়গপুরের বিধায়ক, পরে মেদিনীপুর থেকে জিতে সাংসদ। এবার ফের খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দিলীপ ঘোষ প্রমাণ করেছেন যে, বঙ্গ রাজনীতিতে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা কেবল অটুট নয়, অপরিহার্য। শুভেন্দু মন্ত্রিসভারও অন্যতম মুখ দিলীপ বাবু। 

 

১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘে যোগ দেন এবং দীর্ঘদিন প্রচারক হিসেবে কাজ করেছেন। দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর তিনি সঙ্ঘের আদর্শে নিজেকে জারিত করেছেন। প্রচারক হিসেবে ভারতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করেছেন। 

 

২০১৬ সালে খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০২১ সালে বিজেপি কাঙ্খিত ফলাফল না করতে পারলেও বাংলার বুকে প্রথমবার ৭৭ আসন দখন করে বিরোদী দলের তকমা পায়। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন।