আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হল আজ। দিন কয়েক আগেই বাংলার মতোই তামিলনাড়ুতেও পালাবদলের সাক্ষী থাকেছে দেশ। জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করা বিজয়ের নেতৃত্বে টিভিকে বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে চমকপ্রদ ফল করেছে। এবার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে জমকালো সাজে হাজির বিজয়। পরনে কাল ট্রাউজ়ার, শাদা শার্ট, কালো ব্লেজ়ার। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও আরও একাধিক মন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রবিবার সকালেই তামিলনাড়ুর নয়া মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় শপথগ্রহণ করলেন। সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। চেন্নাইয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়েছেন অভিনেত্রী তৃষা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিজয়ের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর মন্ত্রিসভার আরও ৯ জন মন্ত্রী শপথগ্রহণ করবেন। এই তালিকায় রয়েছেন কেএ সেনগোট্টাইয়ান, নির্মল কুমার, আধব অর্জুন, টিভিকে জেনারেল সেক্রেটারি আনন্দ, রাজ মোহন, ড. টিকে প্রভু, অরুন রাজ, কীর্তনা, পি ভেঙ্কটারামন।
২০২৬-এর এই বিধানসভা নির্বাচন ছিল আক্ষরিক অর্থেই এক থ্রিলার। নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও, সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮-এর ম্যাজিক ফিগার থেকে কিছুটা দূরে ছিল। গত পাঁচ দিন ধরে চলে দফায় দফায় বৈঠক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার পরেও জট কাটছিল না।
অবশেষে ভিসিকে, আইইউএমএল, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলোর নিঃশর্ত সমর্থনে বিজয়ের জোট ১২০-এর গণ্ডি স্পর্শ করে। এর পরেই শনিবার সন্ধ্যায় রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের কাছে সরকার গড়ার দাবি জানান বিজয়। রাজ্যপাল তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে তামিলনাড়ুর রাজনীতি মূলত কংগ্রেস, ডিএমকে বা এআইএডিএমকে-র হাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রথমবারের মতো এই দুই বড় দ্রাবিড় শক্তিকে সরিয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষ ক্ষমতায় এল। বিজয়ের এই উত্থানকে অনেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমজিআর বা এনটি রামা রাওয়ের রাজনৈতিক অভিষেকের সঙ্গে তুলনা করছেন। বিজয়ের দল উত্তর তামিলনাড়ু ও চেন্নাইয়ের ১৬টির মধ্যে ১৪টি আসনেই দাপট দেখিয়েছে। এমনকী কোলাথুর কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন।















