মিল্টন সেন, হুগলি: প্রচারে বেরিয়ে মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেস ও বাম প্রার্থী। দু'জনে হাত মিলিয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তুললেন। সমাজমাধ্যমে সেই ছবি পোস্ট করে সমীর বলেন এটাই সৌজন্য।
মঙ্গলবার সকালে পান্ডুয়া বিধানসভার জামনা অঞ্চলে প্রচার করতে যান তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী। ওই একই জায়গায় প্রচার করছিলেন বাম প্রার্থী আমজাদ হোসেন। প্রচার চলাকালীন হঠাৎই মুখোমুখি হয়ে পড়েন দু'জনেই। কোনও স্লোগান, পাল্টা স্লোগান নয়। দু'জনে হাসিমুখে করমর্দন করেন। কর্মীদের সামনেই হয় সৌজন্য বিনিময়। দু'জন দু'জনকে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবিও তুললেন। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী।
এই প্রসঙ্গে সমীর বলেন, "২০১৬ সালে আমিও বিধায়ক ছিলাম। তিনিও বিধায়ক ছিলেন। রাজ্য বিধানসভায় দেখা হতো। আমাদের দু'জনের দীর্ঘদিনের একটা ভাল সম্পর্ক। তবে তাঁর নীতি আদর্শ আলাদা হতে পারে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ছিল, আগামী দিনেও থাকবে।"
তিনি চান, পান্ডুয়ার মানুষের মধ্যে কোনও অশান্তি না হয়। সর্বদা শান্তি বিরাজ করুক। সেটাই তিনি বাম প্রার্থীকে দাঁড় করিয়ে বলেছেন। প্রতিদন্ধিতা করছেন, তাই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দু'জনেই একমত হয়েছেন এলাকায় শান্তি বজায় থাকবে। কোনও ধর্মীয় বিভাজন হবে না। পান্ডুয়া সারা বাংলাকে নতুন পথ দেখাবে। এটা একটা সৌজন্য সাক্ষাৎকারের অঙ্গ।
সমীর আরও বলেছেন, তিনি প্রচার করছিলেন, সেই সময় বাম প্রার্থীও তাঁর কর্মী, সমর্থকদের নিয়ে প্রচার করছিলেন। তাঁর নৈতিক দায়িত্ব সকলের কাছে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করা। এখানেও সেটা তিনি করেছেন। সিপিএমের সমর্থকদের কাছেও তিনি তাঁকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আবেদনও জানিয়েছেন।
তাঁর কথায়, যাঁরা ধর্মীয় বিভাজন করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে আওয়াজ তুলতে হবে। পশ্চিমবাংলা ধর্মনিরপেক্ষ রাজ্য। সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে পথ চলা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব।
একই কথা বলেছেন সিপিএম প্রার্থী আমজাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, "আমরা সকলে পশ্চিম বাংলার মানুষ। আমাদের রক্তের বিন্দুতে বিন্দুতে বাঙালিয়ানা ঢুকে আছে। উনি আমাদের পান্ডুয়ায় এসেছেন। তাঁর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেছেন। তিনি পাণ্ডুয়ার অতিথি। যাতে সৌজন্যে ঘাটতি না হয় সেটাও দেখতে বলেছি।"
ছবি: পার্থ রাহা














