আজকাল ওয়েবডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলে চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস এবং অভিষেক ব্যানার্জিকে কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপি নেতা তথা শুভেন্দু অধিকারীর একনিষ্ঠ অনুগামী কনিষ্ক পণ্ডা। তাঁর দাবি, এই হত্যাকাণ্ড নিছক কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি চরম ‘রাজনৈতিক আক্রোশে’র ফসল।
কনিষ্ক পণ্ডার অভিযোগ, নির্বাচনের ফল যদি তৃণমূলের পক্ষে যেত, তবে বিজেপি কর্মীদের ওপর আরও ভয়াবহ আক্রমণ নামিয়ে আনা হতো। তিনি বলেন, “যদি কোনও কারণে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করত, তবে বিজেপি কর্মীদের রক্তগঙ্গা বইয়ে দিত তারা। চন্দ্রনাথের এই পরিণতি সেই পরিকল্পিত হিংসারই একটি উদাহরণ।”
নিহত চন্দ্রনাথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কনিষ্ক জানান যে, এর আগেও তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ভয়েই গোটা বাড়ি সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছিল। কিন্তু বাড়ির চারপাশ সুরক্ষিত করলেও চন্দ্রনাথ নিজে যে বাইরে নিরাপদ ছিলেন না, সেই আক্ষেপই এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে বিজেপি শিবিরকে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন কনিষ্ক পণ্ডা। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরের একটি সভা থেকে অভিষেক তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চার আনার নকুল দানা’ এবং ‘তোর বাপকে ডাক’—এর মতো কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন। কনিষ্কের দাবি, ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের পর থেকেই অভিষেকের আক্রোশ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। আর সেই ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রোশের জেরেই এই ধরনের খুনের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি মনে করছেন।
চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এখন জেলা রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর তুঙ্গে। কনিষ্ক পণ্ডার এই বিস্ফোরক বয়ান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত চললেও, গেরুয়া শিবির এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই তুলে ধরছে।















