আজকাল ওয়েবডেস্ক: নজিরবিহীন নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ফাটল ধরেছে, তা এবার কার্যত আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হল। দলের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ জহর সরকার এবার সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশকে লক্ষ্য করে তীব্র তোপ দাগলেন। পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দলের ‘নেপথ্য কুশীলব’দের কড়া সমালোচনা করে বলেন যে, কিছু কুখ্যাত নেতার ভুল পরামর্শ এবং চাটুকারিতার কারণেই মমতা ব্যানার্জির দলকে আজ এই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

জহর সরকারের আক্রমণের তূণ থেকে সবচেয়ে ধারালো বাণটি ছুটে গিয়েছে তৃণমূলের অন্যতম মুখ ডেরেক ও’ব্রায়েনের দিকে। যদিও তিনি ডেরেকের নাম সরাসরি মুখে আনেননি, তবে ‘অস্পষ্ট এবং তৈলাক্ত কুইজ মাস্টার’ ও মমতার ‘ইয়েস ম্যান’ বলে যে বিশেষণে তিনি বিঁধেছেন, তা বুঝতে কারো বাকি নেই। জহরবাবুর কথায়, “দলের কিছু স্বার্থান্বেষী নেতা, যারা জীবনে কখনো মাটির কাছাকাছি থাকেনি, তারা কাল সকালেই ইতিহাসের পাতায় মুছে যাবে। এদের মধ্যে একজন তথাকথিত কুইজ মাস্টার রয়েছেন, যিনি সারা জীবনে গঠনমূলক কিছু করেননি, এমনকি কুইজটাও ঠিকমতো করতে পারেন না। স্রেফ মমতা ব্যানার্জির প্রতিটি কথায় সায় দিয়ে তিনি আজ অহেতুক ক্ষমতার চূড়ায় বসে আছেন।” তাঁর দাবি, এই স্তাবক বাহিনীই মুখ্যমন্ত্রীকে ভুল পথে চালিত করেছে এবং বাংলার মাটিতে তৃণমূলের ভরাডুবির জন্য এরাই দায়ী।

তৃণমূলের সঙ্গে জহর সরকারের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়েছিল আর জি কর কাণ্ডের পর থেকেই। সেই সময় দুর্নীতি এবং এলাকায় এলাকায় চলা ‘দাদাগিরি’র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি যখন পদত্যাগ করেন, তখন তাঁর ইস্তফাপত্রটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছিল। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “দলের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল। আমি আমার ইস্তফাপত্রে দুর্নীতি, গুন্ডামি, অব্যবস্থাপনা এবং পক্ষপাতিত্বের কথা স্পষ্ট উল্লেখ করেছিলাম। নেত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি অধিকাংশ অভিযোগকেই কুৎসা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।”

সাক্ষাৎকারের রেশ কাটতে না কাটতেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ আরও এক দফা বিস্ফোরক পোস্ট করেন এই প্রাক্তন আমলা। সেখানে তিনি লেখেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সময় থাকতে আমার সতর্কবার্তাগুলো শুনতেন, তোলাবাজ এবং দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে দলকে বাঁচাতেন, তবে আজ তাঁকে এভাবে অপমানিত হতে হতো না। আমি তো দল ছেড়ে বেরিয়েই এসেছিলাম, কিন্তু ওই কুইজ মাস্টার দলটাকে এই বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিল। একেই বলে কর্মফল বা কার্মা!” নির্বাচনের ফলাফল এবং জহর সরকারের এই মন্তব্য সব মিলিয়ে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, জহর সরকারের এই ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’-এর পর দলীয় নেতৃত্ব পাল্টা কী পদক্ষেপ নেয়।