আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার সাগরদিঘিতে ভোট বয়কটের হুমকি দিলেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা। মনোজ চক্রবর্তীকে সেখানকার প্রার্থী হিসেবে প্রত্যাহার না করলে তাঁরা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেবেন না, এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাগরদিঘির কংগ্রেস কর্মীরা। প্রসঙ্গত, জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী প্রাক্তন সাংসদ ও কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। 

 

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী করা হয়েছে মনোজ চক্রবর্তীকে। ২০২১ সালে তিনি বহরমপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন। সেখানে তিনি তৃতীয় স্থানে ছিলেন। 

 

এবার আসন বদল করে বহরমপুরের পরিবর্তে তাঁকে সাগরদিঘি কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে, যেখানে তৃণমূলের বায়রন বিশ্বাস এবং বাম-আইএসএফ-এসডিপিআই জোটের মশিউর রহমানও লড়ছেন। উল্লেখ্য, বহরমপুর কেন্দ্রে এবার কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

 

প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার আগে মনোজ চক্রবর্তী সাগরদিঘিতে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠকে গেলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীরা। এবার বৈঠক করে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সোমবারের আগে মনোজ চক্রবর্তীকে সাগরদিঘির প্রার্থী পদ থেকে সরানো না হলে ভোট বয়কট করবেন কংগ্রেসের সকল স্তরের কর্মীরা।

 

তাঁদের দাবি, সাগরদিঘিতে এবার কোনও ভূমিপুত্রকেই প্রার্থী করতে হবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম এমন স্থানীয় নেতা হিসেবে তাঁরা সাহিদুর রহমানের নাম তুলেছেন।

 

ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস কর্মীদের বক্তব্য, ২০২১ সালে তাঁরা বায়রন বিশ্বাসকে সাগরদিঘি থেকে জিতিয়েছিলেন। সেই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সাহিদুরের। অভিযোগ সাগরদিঘিতে সাহিদুরের প্রভাব 'নিষ্ক্রিয়' করতে পুলিশ তাঁকে একটি ভুয়ো মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল। যদিও পরে তিনি ওই মামলায় জামিন পেয়ে যান। সেই কারণেই জেলা ও ব্লক নেতৃত্বের কাছে স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের অনুরোধ ছিল স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করার। কিন্তু রাজ্য নেতৃত্ব সেই অনুরোধ না শুনেই মনোজ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছেন।

 

তাঁদের অভিযোগ, মনোজ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করার আগে সাগরদিঘির বেশিরভাগ অঞ্চল সভাপতির কোনও পরামর্শ নেওয়া হয়নি। প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য কোনও নির্বাচন কমিটিও গঠন করা হয়নি। জেলা সভাপতি হিসেবে মনোজ চক্রবর্তী প্রথমবার সাগরদিঘিতে এসেছেন, তিনি এলাকার মানুষকে চেনেন না। তাহলে প্রার্থী হবেন কেন, এই প্রশ্ন তুলেছেন কর্মীরা।

 

তাঁদের মতে, বকলমে সাগরদিঘি আসনটি কাউকে ‘উপহার’ দেওয়ার কৌশলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাহিদুর অভিযোগ করেন, "গত বিধানসভা নির্বাচনে মনোজ চক্রবর্তী বহরমপুরের সব বুথে এজেন্ট দিতে পারেননি। তাঁকে এবার কারও সঙ্গে আলোচনা না করে সাগরদিঘির মাটিতে লড়তে পাঠানো হয়েছে। বয়স হলে সকলকে একসময় অবসর নিতে হয়, নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে দিতে হয়। সেটা কি জেলার নেতারা ভুলে গিয়েছেন? মনোজ চক্রবর্তীকে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে প্রার্থী না করে সাগরদিঘিতে প্রার্থী করা হয়েছে কাউকে সুবিধা করে দিতে।"

 

দলের কর্মীদের নিয়ে একটি বৈঠকে সাহিদুর জানিয়েছেন, সাগরদিঘির কংগ্রেস কর্মীরা অর্থ বা ক্ষমতার লোভে দল করেন না, তাঁরা ভালবেসে কংগ্রেস করেন। আগামী ৬ তারিখ পর্যন্ত নমিনেশনের মেয়াদ রয়েছে। কংগ্রেস কর্মীরা এখনও অপেক্ষায় আছেন রাজ্য নেতৃত্ব তাঁদের দাবি মেনে সাগরদিঘির কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোজ চক্রবর্তী নাম প্রত্যাহার করবেন।

 

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাগরদিঘির কংগ্রেস কর্মীরা যখন এই বৈঠক করছিলেন সেই সময় তাঁদের পাশে উপস্থিত ছিলেন জেলার রাজনীতিতে একদা অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তথা মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি শিলাদিত্য হালদার।

গোটা ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীকে ফোন করা হলেও তিনি উত্তর দেননি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে পরে এই প্রতিবেদনে যোগ করা হবে।