আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের মুখে সপ্তাহান্তে জোরকদমে প্রচার করছিলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী। বিকেল গড়াতেই বদলে গেল চিত্রটা। শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে ধরেন শিখ সম্প্রদায়ের একদল বাসিন্দা। দু'বছরের পুরনো বির্তকিত মন্তব্য ঘিরেই ভোটের প্রচারে আবারও বিপাকে পড়লেন শুভেন্দু।
ঠিক কী ঘটেছে আজ? শনিবার দুপুরে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চক্রবেড়িয়া ও সংলগ্ন এলাকায় ভোটের প্রচারে ঘুরছিলেন শুভেন্দু। আচমকাই তাঁর কাছে ছুটে আসেন শিখ সম্প্রদায়ের কয়েকজন মানুষ। বিজেপি প্রার্থীর কাছে এসেই তাঁদের অসন্তোষের কথা জানান।
দু'বছর আগে এক শিখ পুলিশ কর্তার উদ্দেশে 'খলিস্তানি' মন্তব্য ঘিরে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়লেন শুভেন্দু। তাঁকে ঘিরে বারবার সকলে প্রশ্ন করেন, কেন এরকম মন্তব্য করেছিলেন? চাপের মুখে পড়ে শুভেন্দু বারবার জানান, তিনি এরকম কোনও মন্তব্য করেননি। এমনকী এক অভিযোগকারীকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টাও করেন এদিন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সন্দেশখালিতে শুভেন্দু, অগ্নিমিত্রা পাল-সহ রাজ্য বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছিল। ধামাখালিতে কর্তব্যরত এক শিখ পুলিশ আধিকারিক জশপ্রীত সিংয়ের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি নেতৃত্ব। অভিযোগ, বাদানুবাদ চলাকালীন শুভেন্দু কর্তব্যরত জশপ্রীত সিংকে 'খলিস্তানি' বলেন।
যার তীব্র প্রতিবাদ করেন ওই আধিকারিক। ভাইরাল হয় এই বাদানুবাদের ভিডিও। মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছিলেন, তিনি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
যদিও অভিযোগ আগেও অস্বীকার করে শুভেন্দু দাবি করেছিলেন, তিনি বা বিজেপির কেউ এরকম কোনও মন্তব্য করেননি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে কলকাতায় বিজেপির দলীয় অফিসের সামনে বিক্ষোভও দেখান শিখ সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রতিনিধি।
এরপরেই এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য পুলিশের তৎকালীন দক্ষিণবঙ্গের এডিজি সুপ্রতীম সরকার বলেছিলেন, 'বিরোধী দলনেতা আঙুল উঁচিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক জশপ্রীত সিংকে খলিস্তানি বলেছেন। এভাবে কখনই কাউকে কিছু বলা যায় না। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। এটা বিভেদ ছড়ানোর চেষ্টা। এটা বরদাস্ত করা হবে না। আমরা এর বিরুদ্ধে সমস্তরকম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।'















