আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বীরভূমের সিউড়ির রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ভোট প্রচারকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের বাড়িতে ঢুকে ভোট চাওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ, সব মিলিয়ে প্রার্থীর আচরণ ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক চাপানউতোর।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার প্রচারের সময়। বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ির বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছিলেন। সেই সময় আচমকাই তিনি সিউড়ির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তপন সুকুলের বাড়িতে ঢুকে পড়েন। সেখানে উপস্থিত কাউন্সিলর তাঁকে আপ্যায়ন করে জল খেতে দেন ঠিকই, কিন্তু স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি তৃণমূলের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং দলীয়ভাবে তিনি বিজেপিকে সমর্থন করবেন না। ফলে তাঁর কাছে ভোট চাওয়া অর্থহীন। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েই সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন বিজেপি প্রার্থী। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেই সাংবাদিকদের কাছে এই ঘটনার কথা স্বীকার করেন। যা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।

তবে বিতর্ক এখানেই থেমে থাকেনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বড় অভিযোগ সামনে আসে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েছেন। অভিযোগ, তিনি অত্যন্ত কড়া ও আপত্তিকর ভাষায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন। যা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পেছনে যে প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে, তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। গত লোকসভা নির্বাচনের সময় সন্দেশখালি থেকে কয়েকজন বিজেপি সমর্থক সিউড়িতে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের দাবি ছিল, তাঁরা বহিরাগত এবং সেই কারণেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পরে মামলা দায়ের হয়। নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় পুলিশ সেই মামলার অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করে দেয় যাতে ভোটের দিন কোনও অশান্তি না হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়।

এই পদক্ষেপের খবর বিজেপি প্রার্থীর কাছে পৌঁছতেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং তাদের পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করছেন। 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একজন দায়িত্বশীল প্রার্থী হিসেবে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর। তারা প্রশ্ন তুলেছে, কীভাবে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়াই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এই আচরণ করা যায়!

অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তাদের কর্মীদের উপর পুলিশ অযথা চাপ সৃষ্টি করছে এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। সেই কারণেই প্রার্থী প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং তাঁর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সিউড়িতে ভোটের আগে এই ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের ঘটনা ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।