আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের ঠিক দু'দিন আগেই হাড়হিম হত্যাকাণ্ড উত্তর ২৪ পরগনায়। ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনা। গতকাল রাতে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে মৃত্যু হয়েছে বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক, সবসময়ের সঙ্গী চন্দ্রনাথ রথের।
আজ, বৃহস্পতিবার সকালে ইকো পার্কে বেরিয়ে খড়গপুর সদরের বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ বলেন, "শুভেন্দু অধিকারীর পিএ-কে গুলি করে খুন। যারা বলছে হিংসা হচ্ছে, তারা কিন্তু হিংসা থামাচ্ছে না। কালকে বলেছি এগুলো যদি না থামে, তাহলে তার প্রতিরোধ প্রতিকার হবে। এরকম পদক্ষেপ করা হোক। বিজেপি সারা ভারতবর্ষে রাজ করছে। প্রতিটি নির্বাচনে জিতছে। কোথাও কোনও মারধর, লুট করে না বিজেপি। ১৫ বছর ধরে আমরা অত্যাচার সহ্য করেছি। এই অত্যাচার চলবে না। গুলি বন্দুকের সংস্কৃতি আমরা বন্ধ করব। আমার মনে হয় এটা নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশের দেখা প্রয়োজন, যাতে আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকে।"
তিনি আরও বলেন, "যিনি পুলিশমন্ত্রী ছিলেন, তিনি ড্রামা করতে ব্যস্ত। তিনি জীবনে কোনও সফলভাবে কিছু করেননি। গত নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে বলেছিলেন, তিনদিন আমি ক্ষমতায় ছিলাম না। এখন কি বলবেন? চিরদিনের জন্য তো আপনি চলে যাবেন। মানুষের সুরক্ষা কে দেবে? এই যে মমতা ব্যানার্জি গুন্ডাদের নিয়ে আসছেন রাজনীতিতে, তার ফল সকলকে ভুগতে হচ্ছে।"
এন্টালিতে কুপিয়ে খুনের প্রসঙ্গে তিনি এদিন বলেন, "যত বদমাইশ, অ্যান্টি-সোশ্যাল সব তৃণমূলের মধ্যে আছে। একটা গ্রুপ খাচ্ছিল, অন্যদের দিচ্ছিল না। তারা এবার প্রতিশোধ নিচ্ছে। অফিস দখল করা থেকে শুরু করে দোকানপাট লুট করা এটা তৃণমূলের ভেতরের ব্যাপার বাইরে আসছে। এর মধ্যে বিজেপির কোনও যোগ নেই। তাই পুলিশকে কড়াভাবে এর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
গতকাল রাতে মধ্যমগ্রামের পাশাপাশি বসিরহাটেও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক বিজেপি কর্মী। পাশাপাশি আরও একাধিক জায়গায় বোমাবাজিতে একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, "এসব বন্ধ করতে হবে। যতক্ষণ না আমাদের সরকার গঠন হচ্ছে ততক্ষণ আমাদের কিছু করার নেই। পুলিশ প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন আছে তাদের দেখা উচিত যেন গন্ডগোল না হয়। কিছু জায়গা, কিছু লোক আছে যারা সব ব্যাপারে সুযোগ নেয়। লুটপাট করে ভয় দেখায়। তারা এবার বিজেপিতে ঢোকার চেষ্টা করছে। আমরা কঠোরভাবে দরজা বন্ধ রেখেছি। আমাদের নেতাদের বলছি এদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন না। কোনও আন্টি-সোশ্যাল যাতে পার্টিতে না ঢুকতে পারে। কেউ ঢোকালে তার ওপর হিসাব হবে। গতবার অনেকেই ঢুকিয়েছিলেন এবার যেন না হয়। আমরা কিন্তু কড়া নজর রেখেছি। প্রশাসন বলে কিছু ছিল! পুলিশ বন্ধুরা খোলা হাত পেয়েছেন, আপনাদের হাত কেউ বেঁধে রাখেনি। আপনারা কিন্তু এদের হাত আটকান। না হলে কিন্তু ঘটনা অন্যদিকে চলে যাবে।"















