আজকাল ওয়েবডেস্ক: সময়টা রাত দু'টো। আপ্ত সহায়ক, সবসময়ের সঙ্গী চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর পর ভিভা সিটি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথায় খুন। তিন-চারদিন আগে এই খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। খুনের বিচার হবেই। অভয়ার মতো বিচারহীন থাকবে না এই ঘটনা।
মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বুধবার রাতে খুন হয়েছেন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ। খবর পেয়ে রাত ১২টার পর হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু। রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বও একে একে সেখানে যান। চন্দ্রনাথের স্ত্রী এবং মেয়ের সঙ্গে রয়েছেন তাঁরা। চন্দ্রনাথ রথের স্ত্রীর সঙ্গে মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত।
এদিন মধ্য রাতে শুভেন্দু আরও বলেন, "আমি ভগ্ন হৃদয় নিয়ে এসেছি এখানে। আমাদের জনপ্রতিনিধিদের কিছু মানুষের ওপর নির্ভর করতে হয়। ওঁ অরাজনৈতিক ব্যক্তি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঁ ছিল না। আমরা এই মুহূর্তে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব না। আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করছি, রাজ্য পুলিশের ডিজি এসেছিলেন। আমাকে এবং সুকান্ত মজুমদারকে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতি দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করবেন। গত ২-৩ দিন ধরে একটি ফলস নম্বরপ্লেট লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘোরাঘুরি চলছিল। এটি সম্পূর্ণভাবে পূর্বপরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথায় খুন।"
এরপরই শুভেন্দু আরও বলেন, "আমি রাজ্যজুড়ে বিজেপির সমস্ত কর্মী, সমর্থকদের অনুরোধ করব, আপনারা কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। দু'দিনের মধ্যেই বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেবে। অভয়ার মতো যাতে বিচারহীন না থাকে, তার ব্যবস্থা আমরা করব। সবাইকে অনুরোধ করব, শান্তি বজায় রাখুন এবং এই পরিবারগুলোর পাশে থাকুন। আমরা থাকতে থাকতেই খড়দহতে বোমাতে একজন আহত, বরানগরে একজন আহত, বসিরহাটে একজন গুলিবিদ্ধ, এই খবরগুলো পেলাম। যাতে আর কোনও মায়ের কোল খালি না হয়, তা দেখতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেব আমরা। সারাজীবন ওঁর পরিবারের পাশে থাকব। আহত হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্ব আমরা নিয়েছি।"
জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের দোহারিয়াতে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গাড়িতে দু’জন ছিলেন চালক ও আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। আপ্ত সহায়কের গাড়ির চালক আহত হয়েছেন। জানা গিয়েছে তাঁরা কালো স্করপিওতে ছিলেন। সূত্রের খবর, বাইকে করে এসে গুলি করে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি লক্ষ্য করে। ঘটনাস্থলে মধ্যমগ্রাম থানা এবং এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ রয়েছে।
এই ঘটনার খবর পেয়েই মধ্যমগ্রামে ঘটনাস্থলে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং, সুকান্ত মজুমদার, অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষ-সহ আরও একাধিক বিজেপি বিধায়ক। ভিভা সিটি হাসপাতালে বাইরে বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।















