আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আত্মপ্রকাশ করল ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’। নিজের রাজনৈতিক দল তৈরি করলেন একদা তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেত্রী রাজন্যা হালদার। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টের সময় কলকাতার প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠকে নিজের দলের নাম ঘোষণা করেন তিনি। যদিও কোন কোন কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে তাঁর দল তা খোলসা করলেন। নিজে কোন আসন থেকে লড়বেন সেটাও জানালেন। শুধু জানান, চমক অপেক্ষা করছে।
রাজন্যা এদিন জানান, খড়দহে জনসংগ্রাম মঞ্চের প্রার্থী হচ্ছেন আইনজীবী অনির্বাণ ব্যানার্জি, রাজারহাট-নিউটাউনে শুভঙ্কর মুখার্জি, সোনারপুর উত্তরে আইনজীবী নারায়ণ দাস, সোনারপুর দক্ষিণে লড়বেন রাজন্যা নিজে। তিনি আরও জানার আরও কিছু বিধানসভা আসনের প্রার্থীর নাম এখন ঘোষণা করা হবে না। সেটি বড় চমক। আগামীকাল থেকে সেই প্রার্থীকে বিধানসভায় দেখা যাবে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে রাজন্যা বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নানা বিধানসভা কেব্দ্র থেকে ভোটের ময়দানে থাকব। বাংলা কাঁদছে, গণতন্ত্র ধার চাই।” এরপর তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে কটাক্ষ করে বলেন, “যে বাংলার মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁকে বাঁচান। বাংলার গণতন্ত্রকে বাঁচানোর আবেদন তাঁকে সুপ্রিম কোর্টে করতে হত না। বাংলার গণতন্ত্রকে কীভাবে বাঁচাতে হয় তা তাঁর করে দেখানো উচিৎ ছিল। কিন্তু তা পারেননি। তাই ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’-এর মাধ্যমে ছাত্রযুবরা মাঠে নামছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা নামতে চেয়েছিলাম অনেকদিন আগেই। কিন্তু আমাদের নামার ধরণ যে এরকম হবে তা চাইনি। আমরা তবুও শেষ ভরসা, বিশ্বাসটুকু রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্বাসের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেওয়া হয়েছে।” রাজন্যার সংযোজন, "২০২৬ আমাদের কাছে বিন্দু, সিন্ধু তৈরি করতে পারব না, সরকার বদলাতে পারব না। হারি কি জিতি, লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরব না।”
এরপরেই রাজন্যা ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’-এপ ইশতেহার প্রকাশ করেন। ইশতেহারে কর্মসংস্থান, চাকরি সঙ্কট, মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করা, নারী সুরক্ষা এবং নারীর অর্থনৈতিক বিকাশ সুরক্ষা করা, শিশুদের পুষ্টির বিকাশ, শিক্ষার উন্নয়ন ইত্যাদি।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর বক্তৃতা সকলের নজর কেড়েছিল। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন করেও নজর কাড়েন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা পছন্দের পাত্রী রাজন্যা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেত্রীও ছিলেন। আর জি করের ঘটনার পর যখন রাজ্য জুড়ে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে সেই সময় এই ঘটনার আধারে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি বানিয়েছিলেন তিনি। তারপর দল তাঁকে সাসপেন্ড করে। তারপর জল্পনা তীব্র হয়েছিল যে, তিনি বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। যদিও সেই জল্পনা সূর্যের আলো দেখেনি। অবশেষে নিজের দল তৈরি করলেন রাজন্যা। দেখা যাক কতটা সাফল্য পান।
