আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার বাংলা এবং অসমের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পরেই আজ দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বৈঠক করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর নেতৃত্বে পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকে বসবে বিজেপি। 

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে মূলত মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রূপরেখা নিয়েই আলোচনা হবে। বাংলার নতুন ক্যাবিনেটে কারা জায়গা পেতে পারেন, তা নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে, বাংলার মসনদে কে বসবেন তার সিদ্ধান্তও এদিনই হওয়ার সম্ভাবনা।

এরপর রাজ্য বিজেপির সল্টলেকের দপ্তরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, রাহুল সিনহা-সহ কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। ওই বৈঠকেও রাজ্যের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।

রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহলে। আগামী ৬ মে পর্যন্ত তৃণমূল সরকারের মেয়াদ থাকলেও তার আগেই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যদিও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ৯ মে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই সমস্ত বিষয় নিয়েই চলছে জোর আলোচনা।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে যেভাবে শুভেন্দু অধিকারী দলকে ক্ষমতায় আনার লড়াইয়ে সামনের সারিতে ছিলেন, তাতে তিনিই মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রধান দাবিদার। আজকের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হতে পারে বলেও জল্পনা তুঙ্গে।

এদিন সল্টলেকের বিজেপির সদর দপ্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

উল্লেখ্য, সোমবার ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম এই দুই কেন্দ্রেই জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী প্রথমে ভবানীপুর থেকে এবং পরে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হওয়ার শংসাপত্র গ্রহণ করেন।

এরপর তিনি কাঁথির বাড়িতে রাত কাটিয়ে মঙ্গলবার সকালে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, দুপুর ৩টে নাগাদ তিনি সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে পৌঁছবেন।

এরপর বিকেল ৪টে নাগাদ তিনি চক্রবেরিয়া পার্টি অফিসে যাবেন, যা ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপির কার্যালয় হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতেও যাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, ভবানীপুর কেন্দ্রেও গিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের ধন্যবাদ জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে জয়লাভের পর সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, 'ভবানীপুরের হিন্দু ভোটারদের সমর্থনেই এই জয় এসেছে।'

এখন প্রশ্ন শুভেন্দু অধিকারীই কি রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন, নাকি অন্য কোনও নাম চমক দিতে চলেছে? ২০২১ সাল থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াই এবং এবারের নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে অনেকেই তাঁর দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।