আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০৬টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় সরকার গড়েছে বিজেপি।
সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তর থেকে বদলের বার্তাও দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে বাংলায় বিজেপির বিপুল আসন পেয়ে জয়ের পর ফের তাদের বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস সাংসদ।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, অসম ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট ‘চুরি’ করে জিতেছে বিজেপি। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, এতে নির্বাচন কমিশনেরও সমর্থন ছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে রাহুল বলেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে তিনি একমত। তিনি দাবি করেন, মমতা ভোট গণনায় যে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন, তিনি তার সঙ্গে একমত। তাঁর দাবি, রাজ্যে ‘১০০-রও বেশি আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে’।
রাহুলের অভিযোগ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিজেপি জয়ী হয়েছিল। উল্লেখ্য, সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়।
সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসকে কার্যত ধূলিসাৎ করে দিয়েছে বিজেপি। ফল প্রকাশের পরই মমতা ব্যানার্জি নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে একহাত নেন। গণনায় কারচুপি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, বিজেপি ‘১০০-রও বেশি আসন লুট করেছে’। তৃণমূল নেত্রী আরও অভিযোগ করেন, গণনা কেন্দ্রে তাঁকে ‘হেনস্থা’ করা হয়েছে। বাংলায় ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ২০৬টি আসন জিতেছে বিজেপি।
তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছে ৮১টি আসন। অন্যদিকে, অসমে ১২৬ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ৮২টি আসন জিতে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করতে চলেছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট মোট ১০২টি আসন পেয়েছে।
উল্লেখ্য, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সোমবার বাংলার নির্বাচনের এই ফলাফলকে ‘ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য এক কালো দিন’ বলে অভিহিত করেন। ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন সপা সুপ্রিমো।
সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘শাসক রাজনীতি কি এখন গণতন্ত্রকে আরও নিচে নামাবে? আজ গোটা দেশ ক্ষুব্ধ, গণতন্ত্র ব্যথিত।’ অখিলেশ আরও দাবি করেন, ২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ লোকসভা ভোটেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
তাঁর দাবি, সেখানেও মানুষের রায়কে ‘প্রকাশ্যে লুট করা হয়েছে’। অন্যদিকে, কপিল সিব্বলও মমতার বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে বিজেপি নয়, বরং নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ভোটারদের বঞ্চনার মাধ্যমে ভোটে হারানো হয়েছে।















